নারীর ৬০ লাখ টাকা নিজের করতে হাসপাতাল এমডির ‘বিয়ের নাটক’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সায়েদ

নোয়াখালীতে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে বিয়ের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে মুন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহিদুল ইসলাম সায়েদের (৪০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুম ইফতেখার। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইমা নুসরাত জাবীন ও সদস্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সোহরাব হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নোয়াখালী সিটি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গেলে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় সায়েদের। সায়েদ তখন সিটি হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার ছিলেন। পরে সুসম্পর্ক করে ৫০ ভাগ শেয়ারে দুজনের নামে মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার করার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। এরপর মুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর চেয়ারম্যান করার প্রলোভন দেখিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে তাকে বাধ্য করেন সায়েদ। পরে ধাপে ধাপে ওই নারী ও তার বোনদের থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর দাবি, ‘লগ্নিকরা ৬০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে সায়েদ আমাকে ৫০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। অন্যথায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বাধ্য হয়ে ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি বিয়ে করি। তবে এতে ৫০ লাখের জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা কাবিন করে দুই লাখ টাকা পরিশোধ দেখায় সায়েদ। বিশ্বাস অর্জনের জন্য আমাকে দুইবার বিয়ে করে সে।’

ওই নারী আরও বলেন, ‘বিয়ে করলেও সায়েদ গত দুবছরে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়নি। বর্তমানে সে রামগতিতে আরেকটি মুন হাসপাতাল করার কথা বলে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করছেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে আমাকে ১১ লাখ টাকার চেক দিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকাও সরিয়ে ফেলেছে। এখন সে আমাকে তালাক দিয়ে টাকার জন্য তার স্বামীহারা এক ভাবীকে বিয়ে করতে চায়। আমার আগেও আপত্তিকর অবস্থায় আটক হয়ে এক নার্সকে বিয়ে করতে বাধ্য হয় সায়েদ। একসময় কিছুই না থাকলেও প্রতারণা করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। আমি টাকা আদায়সহ এ প্রতারকের উপযুক্ত বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম সায়েদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই নারী আমার মুন হাসপাতালের সুদে নেওয়া অর্থলগ্নিকারী ছিলেন। পরে আমি তাকে বিভিন্ন কারণে বিয়ে করি। টাকা পরিশোধের পরও সে আরও টাকা দাবি করায় আমি তাকে তালাক দিয়েছি। এখন সে আমার কেউ না। আর সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করে কী লাভ। তিনি আমার কিছুই করতে পারবেন না। আমি ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে কাবিনের তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।’

সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুম ইফতেখার জাগো নিউজকে বলেন, যেহেতু বিষয়টি হাসপাতাল সংক্রান্ত, সেহেতু এটা দেখার এখতিয়ার সিভিল সার্জনের। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।