শামারুখের লাশ চুরির আশঙ্কায় তার বাবা
আদালতের নির্দেশের পর ছয়দিন পার হলেও ডা.শামারুখ মাহজাবিন সুমীর লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং কবরস্থান থেকে মেয়ের লাশ চুরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম।
কবরস্থানে মেয়ের লাশের নিরাপত্তা চেয়ে কারবালা কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক বরাবর আবেদন করেছেন তিনি।
সূত্র জানায়, গত ২৩ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় পাঠানো ময়নাতদন্ত প্রত্যাখ্যান করেন ডা. সুমীর বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। এরপর মেয়ের লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর আদালত যশোর জেলা প্রশাসককে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের ছয় দিন পার হয়ে গেলেও যশোরে লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা.আতিকুর রহমান খান জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনঃময়নাতদন্ত সংক্রান্ত আদালতের একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এতে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমাদানের কথা বলা হয়েছে। তবে কবে কাজ শুরু করতে হবে সে সংক্রান্ত নির্দেশনা নেই। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সকল বিভাগের সমন্বয়ে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে। জেলা প্রশাসন সব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করবে। তবে লাশ উত্তোলনের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, মেয়ের লাশ চুরি আশঙ্কায় শনিবার সন্ধ্যায় কারবালা কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও হযরত শাহ্ বোরহান হাফেজিয়া মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন করেছেন ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমীর বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মামলার আলামত নষ্ট করার জন্য মেয়ের লাশ চুরি হয়ে যেতে পারে সেই আশঙ্কায় কবরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’
এর আগে জীবন আশঙ্কায় শনিবার দুপুরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। তিনি আশঙ্কা করছেন, তার মেয়ে ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমীর শ্বশুর সাবেক সংসদ খান টিপু সুলতান, মেয়ের শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা বেগম এবং জামাই হুমায়ুন সুলতান শাদাবকে আসামি করে মামলা করায় আসামিরা তার ও তার পরিবারের ওপর হামলা করতে পারে। এ কারণে তিনি জীবন ও সম্পদহানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমীর লাশ তার শ্বশুর সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। সুমীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এ ঘটনায় সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেয়ের শ্বশুর সাবেক সংসদ খান টিপু সুলতান, মেয়ের শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা বেগম এবং জামাই হুমায়ুন সুলতান শাদাবকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।