কক্সবাজার জেলা জজকে প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত বর্জন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২২

 

অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতের সার্বিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন আইনজীবীরা।

রোববার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তাকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী নেতারা।

এর আগে শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে বিশেষ সাধারণ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইনজীবীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে বান্দরবান থেকে বদলি হয়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ ইসমাইল। দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও ধীরে ধীরে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাবে আদালত পরিচালনা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি। এছাড়া আইনজীবীদের সঙ্গে নানা সময় দুর্ব্যবহার করেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল আনোয়ার বলেন, চলতি বছরের ১৪ জুলাই জেলা লিগ্যাল এইডের বৈঠকে জেলার সব আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। সেদিন আমরা এর প্রতিবাদ করে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে বললেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

jagonews24

তিনি বলেন, তার এমন আচরণের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে আইন মন্ত্রণালয়, প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এমন দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি তার নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বাধ্য হয়েই আমরা তার আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রোববার সকাল থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

সমিতির সভাপতি ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আদালত চালু হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিচারক ইসমাইল এসব মানেন না। তিনি তার নিজের ইচ্ছায় আদালতে বসেন, আদালত চালান।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি মিস মামলার পরবর্তী তারিখ আদালতে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তিনি তা করেন না। তিনি ওইসব মামলা খাস কামরায় শুনানি করেন, জামিনও দেন। এছাড়া আদালতে দেওয়া আদেশে সই না করে তা খাস কামরায় রেখে দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে জেলার সমস্ত আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত মতে তার আদালত বর্জনের কর্মসূচি দেওয়া হয়। তাকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।