মির্জাপুরে যত্রতত্র ইটভাটা, হুমকিতে পরিবেশ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষিজমি, জনবসতি এলাকা, স্কুল-কলেজের পাশে, নদীর তীরবর্তী ও বন এলাকায় গড়ে উঠেছে ৯৯টি ইটভাটা। এসব ভাটায় ২৪ ঘণ্টা ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্টের পাশাপাশি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিন জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় বাঁশতৈল রেঞ্জের আওতায় ছয়টি বিট এলাকায় বনবিভাগের প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে হাঁটুভাঙ্গা বিট, বাঁশতৈল বিট, পাথরঘাটা বিট ও কুড়িপাড়া বিট এলাকায় ৪০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বহুরিয়া, কোর্ট বহুরিয়া, দেওহাটা, মীর দেওহাটা, ধেরুয়া এলাকায় আবাদি জমির ওপর প্রায় ৩০টি এবং গোড়াই সৈয়দপুর ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীর পার দখল করে প্রায় ১০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বনবিভাগের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ করার বিধান না থাকলেও তা মানা হয়নি। প্রতিটি ইটভাটা নির্মাণে দুই একর জমি ব্যবহারের প্রাথমিক অনুমতি থাকলেও প্রতিটি ইটভাটায় ৬-১২ একর জমি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শত শত একর আমন ও বোরো আবাদ, রবিশস্য, সুপারি, নারিকেল, আম-জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে ভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবারগুলো।
১০১ নম্বর পাঁচগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে পাঁচগাঁও অটোব্রিকস ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে জানালা বন্ধ রেখে বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে হয়।
গোড়াই সৈয়দপুর ও হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীর পার দখল করে ইটভাটার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে অজানা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইট পোড়ানো মৌসুমে মাটি ফেলে এবং সারা বছর ইট-সুরকির টুকরা ফেলে নদীর পাড় ভরাট করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জার আশরাফুল আলম জানান, এই রেঞ্জের আওতায় ছয়টি বিটে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর বনভূমি রয়েছে। বনের দুই কিলোমিটার এলাকায় ইটভাটা না করার বিধান থাকলেও চারটি বিট এলাকায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, মির্জাপুর উপজেলায় একশোর মতো ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৬০-৬৫টি ইটভাটার হালনাগাদ নবায়ন রয়েছে। অবৈধ ইটভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল জানান, ইটভাটা নির্মাণের আগে কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ভাটামালিকরা এক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। প্রথমে আবাদি জমিকে অনাবাদি দেখিয়ে ইটভাটা গড়ে তোলেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর, কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নের জন্য পত্র লিখেন। পত্র পাওয়ার পর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে আবাদি জমির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না।
এস এম এরশাদ/এসআর/এএসএম