সৌদিতে নিহত নাজমুলের মরদেহ আনতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চায় পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৬:০৮ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২২
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাজমুল হোসেন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাজমুল হোসেনের (২৬) মরদেহ দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়েছেন।

১৪ ডিসেম্বর সৌদি আরবের হাইল শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান নাজমুল। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে ধারদেনা করে নাজমুল ও বাবুল দুই ভাই সৌদি আরব পারি জমান। ছয় মাস আগে কোম্পানিতে কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েন নাজমুল। পরে কোম্পানি থেকে পালিয়ে অন্যত্র কাজ শুরু করেন তিনি। গত ১৩ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন নাজমুল। তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর মারা যান। এখন নাজমুলের মরদেহ দেশে আনতে সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো প্রয়োজন বলে সৌদি আরবে থাকা নাজমুলের ভাই বাবুল পরিবারকে জানান।

এদিকে কোম্পানি থেকে পালিয়ে গিয়ে অবৈধ হওয়ায় নাজমুলের দায়িত্ব নিচ্ছে না তার আগের কোম্পানি। ফলে মরদেহ দেশে আনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মধু মিয়া অসহায় হয়ে পড়েছেন। এক দিকে সংসারের ঋণ, অন্যদিকে ছেলের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে তিনি চিন্তিত। টাকার চিন্তায় বাবা মধু মিয়া ও মা মমতা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন।

নাজমুলের স্ত্রী চাঁদনী বেগম (১৮) জানান, দেড় বছর আগে নাজমুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সাত মাস পর সৌদি যান নাজমুল। গত দুই মাস আগে তার একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। অনেক টাকা ধারদেনা করে তিনি বিদেশ গিয়েছিলেন। কোম্পানিতে কাজ না থাকায় সেখান থেকে পালিয়ে বাইরে কাজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি শেষবারের জন্য তার স্বামীর মুখ দেখার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নাজমুলের চাচাতো ভাই ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের ছাত্র নাসিম রানা বলেন, এখন তারা কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এস এম এরশাদ/জেডএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।