দিনাজপুরে বাড়ছে শীতের তীব্রতা, প্রভাব পড়েছে কৃষিতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

দিনাজপুরে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। এতে জনজীবনের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। শহরতলীর দুই উপজেলার মানুষ শীতকে উপেক্ষা করে বাইসাইকেল চালিয়ে কাজে আসছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা যায়। এদিন দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতা বাড়ায় মানুষ আলুক্ষেত নেট দিয়ে এবং ইরিবোরো ধানের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছে কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলায় এবার ৪৪ হাজার ৯৬৪ হেক্টর জমিতে আলু এবং এক লাখ ৭১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছে। যা এরই মধ্যে উত্তোলন ও বাজারজাত শুরু হয়ে গেছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৭১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবার ৯ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের মাতা সাগর, কৃষাণ বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় আক্রান্ত বীজতলার চারা হলুদ ও লালচে রঙ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষক বলছেন, প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় বীজতলা শীতে কুঁকড়ে গেছে।

জেলার সদর উপজেলার কৃষাণ বাজার এলাকার কৃষক মো. আবু সাইদ বলেন, এবার পৌষ মাসেই শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের কারণে বীজতলাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বীজতলায় স্প্রে করছি, বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে তা রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছি। এখন বীজতলার অবস্থা খুবই খারাপ। মাঘ মাসে শীত বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

অন্যদিকে বিরল উপজেলার তেঘরা, ঢেরাপাটিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আলু ক্ষেতের উপর সামিয়ানার মতো পলিথিন ও নেট টাঙ্গিয়ে দিয়ে শীত থেকে আলুক্ষেত রক্ষা করা হচ্ছে। শীত বাড়লে বীজের জন্য যে আলু চাষ করা হবে সতর্ক হতে হবে।

জয়দেবপুর গ্রামের কৃষক মনসুর আলী জাগো নিউজকে বলেন, আগামী মাঘ মাসে ইরি-বোরা ধানের চারা রোপণ করবো। এজন্য বীজ রোপণ করেছি। চারাও গজিয়েছে। কিন্তু শীতের কারণে বীজতলা কুঁকড়ে যাচ্ছে এবং কুয়াশা বেশি পড়লে চারা বাড়তে পারেনা। সে কারণে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি। পলিথিনের নীচে বীজ তলায় সেচ দিতে হয়। এতে করে চারা যেমন দ্রুত বাড়ে, তেমনি কোনো বালাই আক্রমণ করতে পারে না।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুজ্জমান বলেন, বর্তমানে যে অবস্থায় আছে এতে বীজতলা বা আলুর ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। আর যদি ঘন কুয়াশা দেখা দেয়, রোদ না ওঠে তাহলে বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে। সকালে কাপড় দিয়ে বা দড়ি টেনে জমে থাকা কুয়াশাকে মাটিতে ফেলে দিতে হবে। আর যদি একদমই রোদ না ওঠে বীজতলায় কিছুটা পানি ধরে রাখলে সুফল পাওয়া যাবে। আর এ বিরূপ পরিস্থিতির কারণে কৃষক যদি অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন তাহলে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করব।

এর আগে সকালে শেখপুরা এলাকায় গাবুরা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিন মজুর মানুষেরা শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হয়েছেন। দলে দলে বাইসাইকেল চালিয়ে শহরতলী ও চিরিরবন্দর উপজেলার শত শত মানুষ কাজের সন্ধ্যানে শহর দিকে যাচ্ছেন। একই অবস্থা শহরের আরেক প্রবেশ মুখ কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায়। বিরল উপজেলা থেকে শীত উপেক্ষা করে শত শত খেটে খাওয়া মানুষ বাইসাইকেলে করে শহরে যাচ্ছেন, কাজের সন্ধ্যানে।

এমদাদুল হক মিলন/জেএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।