দিনাজপুরে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষরা। শীতের কারণে কমে গেছে কাজ। কাজের সন্ধ্যানে গ্রাম থেকে আসা অনেক মানুষ কাজ না পেয়ে ফিরেছেন হতাশ হয়ে।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিনাজপুর। ১০ গজের মধ্যেও দৃষ্টি ছড়ায়না।

‘মানুষ বিক্রির হাট’ নামে পরিচিত শহরের ষষ্ঠীতলা মোড়ে কাজের জন্য আসা শ্রমিকরা বসে আছেন কাজ পাওয়ার আশায়। সকাল ১০টার দিকেও তাদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

দিনাজপুরে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

দিনাজপুর শহরসহ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহনকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে দিনাজপুর গামী নৈশকোচগুলো ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা দেরিতে দিনাজপুরে পৌঁছেছে।

ঢাকা গাজীপুর থেকে দিনাজপুরে আসা নাবিল কোচের যাত্রী হুমায়ুন পারভেজ বলেন, রাত ১১টায় উঠেছি। অন্যান্যদিন সকাল ৬টায় কালিতলা কোচ কাউন্টারে এসে পৌঁছে যায়। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ি ধীরে চলেছে তাই ৪ ঘণ্টা দেরি হয়েছে। সকাল ১০টার সময় পৌঁছেছি।

দিনাজপুরে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

‘মানুষ বিক্রির হাট’ নামে পরিচিত শহরের ষষ্ঠীতলা মোড়ে কাজের সন্ধ্যানে আসা নির্মাণ শ্রমিক আবুল হোসেন জানান, তিনি বিরল উপজেলা থেকে কাজের জন্য সকাল ৭টার সময় এখানে এসেছেন। কিন্তু সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাজ পাননি।

তিনি বলেন, এখনও নাস্তা করিনি। আজ আর কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফিরে যেতে হবে। শীতের কারণে প্রায় দিন তাকে কাজ না পেয়ে ফিরতে হয়।

কুয়াশার কারণে ঢাকা থেকে আসা সংবাদপত্রের গাড়িগুলোও দেরিতে আসছে। শহরের এক মাত্র মহিলা পত্রিকা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বলেন, আমি পায়ে হেটে ফেরি করে পত্রিকা বিক্রি করি। পত্রিকার গাড়িগুলো দেরিতে আসায় কেউ পেপার নিতে চান না। দুপুরের পর পত্রিকাগুলো আসায় বেশি মানুষের কাছে যেতে পারি না। ফলে পত্রিকা কম বিক্রি হয়। আবার অনেকে দুপুরের পর পেপার নেন না। এতে আমার আয় তিন ভাগের এক ভাগে নেমেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

দিনাজপুরে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষেরা

ফেরি করে হাতের পায়ের মুজা, উলের টুপি, মাফলারসহ বিভিন্ন হুশিয়ারি শীতবস্ত্র বিক্রেতা আলিফ উদ্দিন, আব্দুর রহিম, শাহীন হোসেন, শাহরিয়ার মুকুল জানান, দেশের সবচেয়ে বড় হুশিয়ারি পণ্য তৈরির এলাকা গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাহার, নয়ারহাট ও পুরাতন বাজার থেকে তারা দিনাজপুরে এসেছেন হুশিয়ারি পণ্য বিক্রির জন্য।

তারা বলেন, দিনাজপুরে শীত বেশি হওয়ায় তারা ৫০ জনের একটি দল এসেছেন। বেচাকেনাও বেশ ভালো। শীত যেভাবে বাড়ছে তাতে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশায় দিনাজপুর ঢাকা পড়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ হওয়ায় মানুষ শীত অনুভব করছে। ৬ জানুয়ারির পর শীত আরও বাড়বে।

এমদাদুল হক মিলন/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।