দিনাজপুর

কনকনে শীতে কাজ মিলছে না দিনমজুরের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৩

দিনাজপুরে কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুররা। সারাদিন সূর্য না ওঠায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও কাজ না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন অনেক দিনমজুর।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হননি। যানবাহনও চলাচল করেছে তুলনামূলক কম।

তখন সময় দুপুর ২টা। ‘মানুষ বিক্রির হাট’ নামে পরিচিত ষষ্টীতলা মোড়ে অলস পড়ে থাকা মিকচার মেশিনের সামনে ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে বসে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুস সামাদ। সকালে বাড়ি থেকে কোনোরকম নাস্তা করে কাজের সন্ধানে এসেছেন ষষ্টীতলা মোড়ে। দুপুর পর্যন্ত কোনো কাজ পাননি। ছবি তুলতেই মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।

আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের বালুয়াডাঙ্গা হঠাৎ পাড়ায় তার বাড়ি। দিনমজুরের কাজ করেই তার সংসার চলে। গত কয়েকদিন ধরে বেশি শীত পড়ায় ঠিকমতো কাজ মিলছে না।

তবে সংসারে সদস্য সংখ্যা কত, কাজ না পেলে কীভাবে সংসার চলবে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শ্রমিক দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারাও কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ফুলতলা বাজারে বাজার করতে আসা বৃদ্ধ আবুবক্কর সিদ্দিক (৭৫) বলেন, ‘খুব জার করেছে বাহে। এইরকম জার করিলে হামরাগুলাতো চলিবায় পারিমনাই। (খুব শীত পড়েছে ভাই। এরকম শীত পড়লে আমরা তো চলতে পারবো না।’

শহরের রাস্তাঘাটে অপেক্ষাকৃত লোকজন কম দেখা গেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাজারেও কেউ ঢোকেননি। তাজিমলি ইসলাম নামের একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী জানান, আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে সবধরনের সবজির দাম কমেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। তাই বিক্রিও কম। শীতের কারণেই এ অবস্থা বলে তিনি জানান।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আবহাওয়া সহকারী) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তাপমাত্রা বাড়লেও বাতাসের আর্দ্রতা ও গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সূর্য না ওঠায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরে বৃষ্টি বা তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে দশমিক ১ শতাংশ।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।