মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি

২ মাস পর ছাড় পেলো স্থলবন্দরে পড়ে থাকা ৭৭০ টন গুঁড়া পাথর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
গুঁড়া পাথর খালাসের কাজ চলছে

অবশেষে কাস্টম থেকে ছাড়পত্র পেলো মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা ৭৭০ টন গুঁড়া পাথর (ডাস্ট)।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে ছাড় পাওয়া পাথরগুলো খালাসের কার্যক্রম শুরু করেছে স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ দুই মাস ১০দিন গুঁড়া পাথরগুলো স্থলবন্দরে পড়েছিল। ফলে আমদানিকারকদের ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মাশুল গুনতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: চূর্ণ পাথরের বদলে ভারত থেকে আনা হলো ডাস্ট

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো চূর্ণ পাথর ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হয়। কয়েক দফায় মোট ২ হাজার ৭০০ টন চূর্ণ পাথর আমদানি করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানটি আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজের জন্য পাথর আমদানি করেছে।

এগুলো বন্দর থেকে ছাড়ানোর কাজ পায় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজলের মালিকানাধীন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজ।

আরও পড়ুন: আখাউড়া হয়ে এলো আরও ১৭৪ টন গুঁড়া পাথর

চূর্ণ পাথর প্রথমবার আমদানি হওয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানায় কাস্টমস। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে জানা যায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পাথরের বদলে ডাস্ট (ধুলা) আনা হয়েছে। স্থলবন্দরে আটকে দেওয়া হয় ধুলাগুলো। এতে প্রতিদিনই বন্দর কর্তৃপক্ষকে মাশুল বাবদ ৩৬ হাজার টাকা দিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।

এ বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘২ হাজার ৭০০ টন গুঁড়া পাথর আমদানির পর কাস্টম থেকে আমাদের জানানো হয় এ বন্দর দিয়ে এই পাথর আমদানির অনুমোদন নেই। এরপর থেকে কাস্টমের নানান জটিলতায় গুঁড়া পাথরগুলো বন্দরে পড়ে থাকে। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রথম চালানের ৭৭০ মেট্রিক টন গুঁড়া পাথর খালাসের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরও আমাদের বন্দরে ১৯৩০ টন গুরা পাথর থেকে যাবে। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জাগো নিউজকে বলেন, গুঁড়া পাথর আমদানির অনুমতি না থাকায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তবে চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের হওয়ায় এনবিআর বিশেষ ক্ষমতায় শর্তসাপেক্ষ ৭৭০ টনের ছাড়পত্র দিয়েছে। বাকিগুলোর জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআরে আবেদন করেছে।’

আখাউড়া স্থলবন্দরের সুপারিন্টেনডেন্ট মো. সামাউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ২ হাজার ৭০০ টন গুঁড়া পাথরের মধ্যে ৭৭০ টন অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিরা সকাল থেকে খালাসের কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে ২ মাস ১০ দিনে বন্দরের মাশুল ফি আদায় হয়েছে ২১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।