মামাকে হত্যার ৩ বছর পর দুই সৎ ভাগ্নে গ্রেফতার
মামাকে হত্যার তিন বছর পর পলাতক দুই সৎ ভাগ্নেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেফতাররা হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী এলাকার ভুলু চৌকিদারের বড় ছেলে আরিফ চৌকিদার (২৭) ও ছোট ছেলে রাজিব ওরফে রাজু চৌকিদার (২২)।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন পিবিআই বরিশালের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, গ্রেফতাররা নিহত আপাং তালুকদার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ সুপার জানান, আপাং তালুকদারের জমিজমার ভোগ দখল নিয়ে গ্রেফতারদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। ২০২০ সালের ২৬ মার্চ সকালে বাকেরগঞ্জের কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠী গ্রামে বিরোধীয় জমিতে আসামিরা রান্নাঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তাতে আপাং তালুকদার ও তার স্ত্রী বাধা দেন।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে আসামিদের লোহার শাবলের আঘাতে আপাং তালুকদার গুরুতর আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন কাজল রেখা বাদী হয়ে মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
হত্যাকাণ্ডের পর আরিফ চৌকিদার ও রাজিব ওরফে রাজু চৌকিদার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চাকতাই এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। পরে দুই আসামিই ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আপাং তালুকদার কবাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আলী হোসেন তালুকদারের ছেলে। পাশাপাশি হামলাকারীরা নিহতের সৎ ভাগ্নে বলে জানিয়েছিলেন মামলার বাদী ও নিহতের বোন কাজল রেখা।
এমআরআর/এএসএম