রহিমা অপহরণ মামলায় পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি
খুলনার বহুল আলোচিত রহিমা বেগম অপরহরণের ঘটনায় পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিপক্ষে নারাজির আবেদন করেছেন বাদী আদুরী বেগম।
রোববার (১৬ এপ্রিল) খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর আদালতে তিনি এ আবেদন করেন। আবেদন শুনানির জন্য আদালত আগামী ৮ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন পারভীন জলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মামলাটি বিচারের জন্য এ আদালতে এসেছে। আজ এ মামলার কর্মদিবস ছিল। মামলার বাদী রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী বেগম পিবিআইয়ের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম সেটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামী ৮ মে দিন নির্ধারণ করেছেন।
আরও পড়ুন: মায়ের ‘অপহরণ’ সাজানো, নিয়মিত টাকা পাঠাতেন মরিয়ম
তিনি আরও বলেন, মামলার আসামিরা আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষে আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন বর্ধিত করেন আদালত।
মামলার বাদী আদুরী বেগম বলেন, আজ আদালতে গিয়েছিলাম। পিবিআই আদালতে যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে সেটি আমাদের মনোপুত না হওয়ায় আইনজীবীর মাধ্যমে নারাজি আবেদন জানিয়েছি।
আরও পড়ুন: মরিয়মের মা রহিমা বেগম ‘অপহরণ’ মামলায় ৪ আসামির জামিন
গত বছরের ২৭ আগস্ট রাতে খুলনা নগরীর উত্তর বণিকপড়ার বাসার উঠানের নলকূপ থেকে পানি আনতে গিয়ে অপরহণ হন মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা খাতুন। এরপর থেকে টক অব দ্যা ক্যান্ট্রিতে পরিণত হয় বিষয়টি। অবশেষে এ অপহরণ ‘নাটকের’ অবসান করে পুলিশ। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। তারপর তাকে মেয়ে আদুরীর জিম্মায় দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: তদন্তে জবানবন্দির মিল পাচ্ছে না পুলিশ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আব্দুল মান্নান চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগর মেট্রোপলিটন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগে পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, তদন্তে মরিয়ম মান্নানের মাকে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে গিয়ে এ অপহরণ নাটকের প্রমাণ মিলেছে।
আলমগীর হান্নান/এমআরআর/জিকেএস