কেসিসি ২ নম্বর ওয়ার্ড

এলাকাবাসীর গলার কাঁটা মাদক ও কিশোর গ্যাং

আলমগীর হান্নান আলমগীর হান্নান খুলনা
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ০৪ মে ২০২৩

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ওয়ার্ডবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হলেও এখানে এখন আর নেই কোনো শিল্পকারখানা। ফলে শ্রমিকদের অনেকেই হয়েছেন বেকার। বকেয়া বেতনভাতার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও কোনো ফয়দা হয়নি তাদের। বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা দেওয়া বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন অনেকেই।

ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, দরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা বিপথগামী হলেও এসব বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা বরাবরই উদাসীন।

এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলরসহ ছয় জন। যাদের কাছে ওয়ার্ডবাসীর প্রত্যাশা মাদক ও জলাবদ্ধতা মুক্ত মডেল ওয়ার্ড।

জানা যায়, নগরীর নগরঘাট থেকে বেলঘাট, সোনালী জুট মিল, অ্যাজাক্স জুট মিল, আরআরএফ, পিটিসি, টিবি হাসপাতাল, আইডি হাসপাতাল, বিভাগীয় খাদ্য গুদাম এলাকা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান। এই ওয়ার্ডে জনসংখ্যা ২৬ হাজারের বেশি।

এলাকাবাসী জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য এলাকার মতোই এই এলাকাতেও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুলনা ওয়াসাসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো একযোগে কার্যক্রম চালানোর কারণে এলাকার সড়কগুলো এখন চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে অত্যন্ত ধীরগতিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ চলমান থাকায় এলাকায় মশার উপদ্রব এত বেড়েছে যে, তা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া ভার।

তবে মশার উপদ্রব সহ্য হলেও এলাকার জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিয়েছে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা। হাত বাড়ালেই এই ওয়ার্ড এলাকার বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের মাদক। রেল, সড়ক ও নদীপথে এই ওয়ার্ডে যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় মাদক এখানে সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসবের মধ্যেই নাগরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মাঠে রয়েছেন ছয় প্রার্থী। তারা হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান মুকুল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী শাকিল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এফএম জাহিদ হাসান জাকির, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থী মো. বজলুর রহমান।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এলাকার মানুষের বেকারত্ব দূরীকরণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষার প্রসার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নের কথা ভাবছেন বিএনপি নেতা ও বর্তমান কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজের শতকরা ৮৫ ভাগ শেষ হয়েছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটা সমস্যা হলো এখানে কোনো ওয়ার্ড অফিস নেই। এর জন্য জমি কেনা হয়েছে, কিন্তু ওয়ার্ড ভবন করা হয়নি।

তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যে আমি যেভাবে কাজ করেছি তাতে এলাকার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমাকে মানুষ সবসময় পাশে পায়, তাদের প্রয়োজনে আমি হাজির হই।

এলাকাবাসীর গলার কাঁটা মাদক ও কিশোর গ্যাং

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের এ ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষই শ্রমিক। আর আমি একজন শ্রমিক নেতা। শ্রমিকদের সমস্যা আমি বুঝি। এ ওয়ার্ডটাকে আমি নিজের মতো করে সাজাতে চাই। মানুষের দুঃখ, দুর্দশায় পাশে থাকতে চাই।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান মুকুল জানান, এ ওয়ার্ড শ্রমিক এলাকা। সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে এখানে। আমি স্থানীয় ছেলে। ফলে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা ভালো। এ ওয়ার্ডে ২৭টি ছোট বড় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলোর উন্নয়নে আমি কাজ করতে চাই। আমি কাউন্সিলর হলে এলাকার অবহেলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবো।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এফএম জাহিদ হাসান জাকির জানান, এলাকার মাদক নির্মূলে আমরা কোনোদিন আপোস করিনি। আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সরকারের কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি এ ওয়ার্ডে। এলাকার মাদক, বেকারত্ব বড় সমস্যা। তাছাড়া বর্তমান কাউন্সিলর এ এলাকার বাসিন্দাই নয়।

এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।