পরকীয়া প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে ফাঁস নিলেন ফুটবলার
পরকীয়া প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মো. সোহেল জমাদ্দার (২২) নামে এক ফুটবলার।
রোববার (৭ ম) সকালে নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামের নির্মাণাধীন ড্রেসিং রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফুটবলার সোহেল ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রায়াপুর বটতলা এলাকার হাফিজ জমাদ্দারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল ঢাকার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে গোলরক্ষক হিসেবে দুবছর খেলেছেন। বর্তমানে তিনি বরিশালের বিভিন্ন দলে খেলতেন।
সোহেলের বোন শান্তা বলেন, ‘বিয়ের আগে বরিশাল নগরীর বেসরকারি নার্সিং কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেম ছিল। কিন্তু তাদের সেই সম্পর্ক টেকেনি। পরে ভাইকে অন্য জায়গায় বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর সবার অজান্তে সেই মেয়ের সঙ্গে আবারও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ভাই। কোনোভাবে দুজনকে ফেরানো যায়নি। এ নিয়ে তার সংসারে অশান্তি শুরু হয়। শনিবারও ঝগড়া হলে ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবাবাড়ি চলে যান।’
শান্তা আরও বলেন, ‘রাতে ভাইয়ের প্রেমিকা ফোনে জানান তার ইমোতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে জানিয়ে রশি ও একটি মইয়ের ছবি পাঠিয়েছেন। গভীর রাতে তাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি জানার পর আমরা ভাইয়ের ইমো নম্বরে কল দিলেও কেউ রিসিভ করেনি। পরে সকালে এসে স্টেডিয়ামে ভাইয়ের মরদেহ পাই।’
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শনিবার গভীর রাতে পরকীয়া প্রেমিকাকে প্রথমে আত্মহত্যার সরঞ্জামাদির ছবি পাঠায়। পরে ভিডিও কলে রেখে সোহেল আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে।
এসআই শহীদুল আরও বলেন, আউটার স্টেডিয়ামের জন্য নির্মিতব্য ড্রেসিং রুমে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু রশিতে ঝোলার পর ছিঁড়ে নিচে পড়ে তার মাথা ফেটে গেছে। এছাড়া সোহেলের মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাওন খান/এসজে/এমএস