বরিশাল সিটি নির্বাচন

খোকন অনুসারীরা চান না সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে আসুক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ১৮ মে ২০২৩
বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতের সমর্থকরা চাচ্ছেন না বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে আসুক। তারা বলছেন, সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে এলে সিটি নির্বাচনে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। তাই তিনি বরিশালে এলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বঞ্চিত করে তার চাচা খোকন সেরনিয়াবাতকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে বরিশালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। খোকন সেরনিয়াবাত মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তার হয়ে মাঠে নামেন সাদিকবিরোধী সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের অনুসারীরা। হিরন অনুসারীরা বিগত প্রায় ৯ বছর ধরে কোণঠাসা হয়ে বরিশাল রাজনীতির বাইরে ছিলেন। সাদিক অনুসারীদের চাপে কেউ কেউ বরিশালের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তারাই নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের হাত ধরে বরিশালের রাজনীতিতে ফিরে নিজেদের আগের অবস্থান ফিরে পেতে চাইছেন। তারাই জোট বেঁধে সাদিক আবদুল্লাহকে বরিশালে ফিরতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে সাদিক অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বরিশাল-ভোলা স্পিডবোট ঘাট ও রুপাতলী বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলে নিয়েছেন তারা। সম্প্রতি বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ (বাকসু) ভবনের তালা ভেঙে দখলে নিয়েছেন।

নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নৌকা যাতে না জেতে, সেজন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন মেয়র সাদিক ও তার অনুসারীরা। সাড়ে চার বছর বরিশালে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলেন তারা। এ অবস্থায় তিনি (সাদিক) বরিশালে এলে একদিকে যেমন নৌকার ক্ষতি করবেন, তেমনই ভয় পাবেন সাধারণ মানুষ। সেক্ষেত্রে ভোট হারাবে নৌকা। তাই আমরা চাই না তারা আসুক। তারপরও যদি আসার চেষ্টা করেন তাহলে প্রতিহত করা হবে।’

নৌকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বিএম কলেজ কর্মপরিষদের সাবেক ভিপি মঈন তুষার বলেন, ‘দল নয়, এরা সাদিকপন্থি। এদের দিয়েই গত সাড়ে চার বছর নগরে নানা অপকর্ম করিয়েছেন সাদিক। এরা মাঠে নামলে নৌকার ক্ষতি হবে। বরিশালের মানুষ পরিবর্তন চায়। দলমত নির্বিশেষে তাই সবাই এখন নৌকার পক্ষে। মান্নামার্কা (সাদিক আবদুল্লাহর একনিষ্ঠ কর্মী মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক রইচ আহমেদ মান্না) নেতারা মাঠে নামলে সেই ঐক্য আর থাকবে না। সাধারণ ভোটাররাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়বেন।’

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা অসীম দেওয়ান বলেন, ‘তারাতো (সাদিক এবং তার অনুসারী) নৌকার পক্ষে কাজ করবেন না। এই যে দেখুন, পরপর তিনবার হামলা হলো নৌকার কর্মীদের ওপর। দলকে ভালোবাসলে কি তারা এভাবে হামলা করতে পারত? যে কোনো মূল্যে মেয়র সাদিকের বরিশালে আসা প্রতিহত করবো আমরা। কেননা তিনি বরিশালে এলে নৌকাকে হারানোর মিশন নিয়েই আসবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, মনে হচ্ছে, নৌকার বিজয় নয়, দখল আর প্রতিপক্ষ দমনের প্রতিযোগিতা চলছে। অবৈধ আয়ের জায়গাগুলো সাদিক অনুসারীদের হাত থেকে নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টায় আছে একটি পক্ষ। আরেক পক্ষ চাইছে ৯ বছরের কোণঠাসা পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে রাজনীতির মাঠের দখল নিতে।

তবে মেয়র সাদিক অনুসারী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নৌকার জন্য আমরাও কাজ করছি। কিন্তু যেভাবে দলে বিভাজন করা হচ্ছে, তাতে আমাদেরই যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কি তারা বোঝেন না?’

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলে টুকটাক জটিলতা থাকতেই পারে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। দল, প্রার্থী ও নৌকা প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

শাওন খান/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।