আগে টাকা পরে পরীক্ষা


প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৬

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া আলিম মাদরাসার ২৩ জন শিক্ষার্থী এবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এজন্যে সরকারের নির্ধারিত ১৪১৫ টাকাসহ অতিরিক্ত ৭শ থেকে ৯শ টাকা বেশি দিয়ে যথা সময়ে প্রতিষ্ঠানের রশিদে ফরম ফিলাপ করেছে তারা।

এদিকে পরীক্ষার দিনক্ষণ ধার্য্য হলেও তাদের হাতে আসেনা পরীক্ষার প্রবেশপত্র। এনিয়ে ওই ২৩ জন পরীক্ষার্থী চরম উৎকণ্ঠায় থেকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন কেন্দ্র ফি বাবধ অতিরিক্ত আরো ৩২৫ টাকা দিতে হবে। এতে পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষ প্রবেশপত্র না দিয়ে তাদের সাফ জানিয়ে দেন ‘আগে টাকা পরে পরীক্ষা’।

রোববার পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগ পর্যন্ত যার যার অবস্থানে অনঢ় থাকেন অধ্যক্ষ ও পরীক্ষার্থীরা। পরে পরীক্ষা শুরুর ২ মিনিট আগে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে প্রবেশপত্র বিতরণ করেন অধ্যক্ষ।

জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া আলিম মাদরাসার ২৩ জন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ১২ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে নোটিশ মারফত ফরম ফিলাপের জন্য জাননো হয়। নোটিশে বোর্ড ফি ১৪১৫ টাকা কেন্দ্র ফি ৩৫০টাকা নৈমত্তিক ফি ৩০০ টাকা, সেশন ফি ৩০০ টাকা, যাতায়ত ফি ৩০০ টাকা, দরিদ্র ফি ২০০ টাকা, কোচিং ফি ২০০ টাকাম নির্মাণ ফি ২০০ টাকা ও অন্যান্য ফি ৫০০ টাকাসহ মোট ৩৭৭৫ ধার্য্য করা হয়।

এতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে পরে তা কেন্দ্র ফিসহ ২৩০০ টাকা নির্ধারিত হয়। দু’একজন দরিদ্র শিক্ষার্থী ব্যতিত সকলেই প্রতিষ্ঠানের রশিদে ২৩০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ করে। দিনক্ষণ ধার্য হয় পরীক্ষার। অন্য প্রতিষ্ঠানের সহপাঠীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র হাতে পেলেও কষ্টাপাড়া আলিম মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীর হাতে আসেনা প্রবেশপত্র।

পবেশপত্রের জন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুপার তাদের কেন্দ্র ফি বাবদ ৩২৫ টাকা দিয়ে প্রবেশপ্রত্র সংগ্রহ করতে বলেন।

এবিষয়ে পরীক্ষার্থী খালেক বলেন, মাদরাসায় যারা পড়াশুনা করে তারা অধিকাংশই দরিদ্র। আমাদের ভর্তি করানোর সময় বলা হয়েছিলো বোর্ড ফি ছাড়া অন্য কোন ফি নেয়া হবে না। কিন্তু এই সুপার নানা অজুহাতেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছে।

পরীক্ষার্থী সুজন বলেন, পরীক্ষার আগে যেমন সময় নষ্ট হয়েছে তেমনি পরীক্ষা শেষে হবার আগেও আমাদের অনেক সময় নষ্ট করেছে। সুপার ও একজন অফিসার এসে আমাদের দাঁড় করিয়ে বলছে পরের পরীক্ষায় রশিদ দেখাতে হবে নয়তো টাকা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

এ বিষয়ে পরীক্ষার শুরুতে কষ্টাপাড়া দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুছ সাত্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওই বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি অধ্যক্ষ নন বলে পাশ কাটিয়ে যান। পরে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই কিছু লেখা-লিখি করিয়েন না। এক সঙ্গে বসে চা-টা খাবোনি। বুঝেনি’ত লাম-ছাম কিছু নিয়ে খরচ চালাতে হয়।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি তারা মৃধা বলেন, উপবৃত্তি বাবদ টাকা নেয়া ও পরীক্ষার্থীদের এই সকল সমস্যার কথা সভাপতি হিসেবে অধ্যক্ষ আমাকে কিছুই জানায়নি। সভাপতি হিসেবে আমি ওই প্রতিষ্ঠানের কিছুই জানিনা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ঘটানাটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।