ছাড়পত্রহীন ইট ভাটায় সয়লাব টাঙ্গাইল


প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৬

ছাড়পত্রহীন ইট ভাটায় সয়লাব হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইল। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। যত্রতত্র গড়ে উঠা ইট ভাটা গুলোতে বেআইনিভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ হারাচ্ছে তার জীব বৈচিত্র।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১শ ৭৯টি ইট ভাটা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি চলছে ছাড়পত্রহীনভাবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইনে এলজিইডি বা পৌরসভা সড়কের আধা কিলোমিটারের মধ্যে ও ফসলি জমি বা আবাসিক এলাকায় ইটভাটা না করা বিধান থাকলেও টাঙ্গাইলের অধিকাংশ ভাটা মালিক তা অমান্য করে গড়ে তুলেছেন ইট ভাটা। এর পাশাপাশি ভাটা গুলোতে কয়লা পোড়ানোর সরকারি বিধানটি অমান্য করে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

ছাড়পত্রহীন ইটভাটার মালিকদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা নির্ধারণ মোতাবেক তাদের ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এর সময়সীমা রয়েছে।

ভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে ভাটা মালিকরা জানান, কয়লার চেয়ে কাঠ সাশ্রয়ী এবং এতে মান সম্মত ইট প্রস্তুত করা সম্ভব হয় বলেই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। তবে শুধু কাঠ পোড়ানোর কথা অস্বীকার করে তারা বলেন, কয়লার পাশাপাশি কাঠ পোড়াচ্ছেন তারা।

Tangail

পরিবেশবাদী সংগঠন "বেলা"র পরিবেশবিদ সোমনাথ লাহেড়ী জানান, কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে আবাদি জমি নষ্ট করে ভাটা তৈরি করায় ফসলসহ ভাটার আশপাশের আবাসিক এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করার কথাও বলেন তিনি।

ছাড়পত্রহীন ইটভাটা পরিচালনা প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম খান বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমার ফলে ৬৯টি ছাড়পত্রহীন ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়সীমার মধ্যেই ছাড়পত্রহীন ভাটা মালিকদের পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভাটাগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ভাটায় কাঠ পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ছাড়পত্রহীন ইটভাটা ও কাঠ পোড়ানো রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসন এ সমস্যারোধে তৎপর রয়েছে।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।