ভারতের ইছামতিতে বাংলাদেশি নিখোঁজ
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকে শুরু উদ্ধার কাজ
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা সীমান্তে ভারতের অংশে মশিয়ার রহমান (৫৪) নামে এক বাংলাদেশি ইছামতি নদীতে ডুবে যাওয়ার দু’দিনেও মরদেহ উদ্ধার হয়নি।
ওই সীমান্ত দিয়ে মশিয়ার রহমান সোনা পাচার করতে গিয়ে ডুবে গেছেন এমন গুঞ্জনে সীমান্তের দুই পাড়ে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়েছে। এ ঘটনায় রোববার (১০ মার্চ) রাত থেকে উভয় সীমান্তে সীমান্তরক্ষীরা টহল জোরদার করেছে। সোমবার (১১ মার্চ) দুপুর ১২টায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মাঝে ইছামতি নদীর ওপর ভারত সীমান্তে বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিকেল ৪টা থেকে মরদেহ উদ্ধারে উভয় দেশের সহযোগিতায় নদীতে ডুবুরি নামিয়ে খোঁজা হবে।
পানিতে ডুবে যাওয়া মশিয়ার রহমান শার্শা উপজেলার হরিষচন্দ্রপুর গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে। রোববার বিকেল ৫টার সময় ভারতের পিপলিগাছি সীমান্তের ইছামতি নদীতে ডুবে যান তিনি।
ওই এলাকার লোকজন জানান, ভারতীয় পিপলিগাছি সীমান্তের বিএসএফের টহল দল স্পিডবোট এনে ইছামতি নদীতে পাহারা জোরদার করেছে।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মশিয়ারের কাছে ৫ কেজি সোনা ছিল। তিনি সোনা বহন করে ওপারে ভারতের ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। মশিয়ার পানিতে ডুবে যাওয়ার পর থেকে ওই গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তিনি মশিয়ারকে ভারতে সোনা পাচার করতে দিতেন।

মশিয়ার রহমানের ছেলে হাসানুজ্জামান বলেন, তার বাবা রোববার ভারত সীমান্তে গরুর ঘাস কাটার জন্য নদী পার হওয়ার সময় ডুবে যান। এ পথে জসিম নামে তাদের পাশের গ্রামের একজন সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন নদীর মধ্যে হাত উঁচু করে এক ব্যক্তি ইশারায় ডাকছেন। তখন তারা ছুটে গিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত হরিষচন্দ্রপুর গ্রামের পলাতক হাবিবার রহমানের ছেলে মিরাজ রহমান বলেন, মশিয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ার খবরের পর থেকে তার বাবা বাড়ি থেকে কোথায় চলে গেছেন। তাকে ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না।
গোগা ইউপি সদস্য অশোক কুমার বলেন, মশিয়ার ভারতের ইছামতি নদীতে ডুবে গেছেন। অনেকে বলছে তার কাছে ৫ কেজি সোনা ছিল। এমন গুঞ্জন বিশ্বাস করা যায় না। তার মরদেহ উদ্ধার হলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
গোগা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মতিয়ার রহমান বলেন, উভয় দেশের সহযোগিতায় পানি থেকে মশিয়ারকে উদ্ধার করা হবে।
জামাল হোসেন/এফএ/এএসএম