মুকসুদপুরে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর উপর হামলা
চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আসাদুজ্জামান মিয়ার উপর হামলা, অফিস ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আসাদুজ্জামান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ফেরার পথে ইউনিয়নের রায় বাড়ি এলাকায় নৌকা মার্কার প্রার্থীর নিকটাত্মীয় এনায়েত হোসেন লিপনের নেতৃত্বে কয়েক’শ লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মিছিল করে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় আমি অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম জান বাঁচাই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাকে উদ্ধার করে।
পরে আমি ননীক্ষীর বাজারে এসে দেখতে পাই শেখ হারুনের কর্মী সমর্থকরা আমার গাড়ি ও অফিসের গ্লাস ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ধান ও চালের বস্তা কেটে দিয়ে মালামালের অনিষ্ট করে।
এছাড়া আমাকে মোবাইল ফোনে বার বার জীবননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। 
সরেজমিনে ও এলাকার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে ওই ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে জনসভা করা হয়। ওই জনসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। এমনকি মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম সিকদার ঘোষনা দেন, ‘ মুকসুদপুরে নৌকার বাইরে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না।’
এদিকে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সভাস্থলে গেলে তাকে শাসিয়ে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ফলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ হারুনের সঙ্গে কথা বললে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোপালগঞ্জের শতভাগ মানুষ নৌকায় ভোট দেয়। আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে প্রতিপক্ষ আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এসব মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।
হুমায়ূন কবীর/এসএস/এমএস