সখীপুরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৪০ গ্রামবাসী
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গোহালীয়া নদীর উপর সেতু না থাকায় তিন ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে হাতিবান্ধা, বহুরিয়া ও যাদবপুর ইউনিয়নবাসী সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে ওই তিন ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষকে প্রতিদিনই অবর্ণনীয় সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
জানা যায়, সখীপুর সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত গোহালীয়া নদী। উপজেলার হাতীবান্ধা, বহুরিয়া ও যাদবপুর ইউনিয়নের বুক চিরে ওই নদীটি বয়ে গেছে। নদীর উপর এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে কাঠের ফালি ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে আসছেন। প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের লোকজনকে উপজেলা, জেলা শহর টাঙ্গাইল ও বিভাগীয় শহর ঢাকায় যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানযোগে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অপরদিকে, ভারি যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ কি.মি ঘুরে যেতে হয়। ওই এলাকায় বেশ কিছু হাট-বাজার, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ওই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করে থাকেন। ফলে এলাকার শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়।
গোবরাচালা গ্রামের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, ভাঙা সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পার হয়ে আমাদের স্কুলে যেতে হয়। সাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় বুক ধঁড়ফঁড় করে, মনে হয় এই বুঝি পড়ে গেলাম।
হাতীবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও স্কুল শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, প্রতি বছরই গ্রামবাসী চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে গোহালীয়া নদীর উপর কাঠের সাঁকোটি মেরামত করে। স্বাধীনতার পর থেকেই ওই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সেতুটি নির্মিত হলে তিন ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি মিটে যাবে বলেও তিনি জানান।
কাজিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, নদীতে সেতু না থাকায় এলাকার অসুস্থ রোগীদের ১৫ কিলোমিটার ঘুরে হাসাপাতাল যেতে হয়।
এবিষয়ে হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের আবেদন করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকার মানুষের কষ্টের সীমা নেই।
হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবীন হোসেন বলেন, এত বড় সেতু নির্মাণের তহবিল না থাকায় আমাদের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বলেন, ওই নদীতে সেতু নির্মাণের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস