কাজ না পেয়ে পিআইও কার্যালয়ে হামলা : আটক ২
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ৫টি সেতুর নির্মাণ কাজ লটারীতে না পেয়ে কলমাকান্দা পিআইও’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অফিসে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পিআইও’র অফিস ভাঙচুর করে ও অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে মারধর করে। এ ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাতেই থানায় মামলা করেছেন।
আটকরা হলেন, আব্দুল আওয়াল এবং উত্তম। তারা দুজনই নিজেদের যুবলীগ নেতা বলে দাবি করেছেন। সুজন বিশ্বাস স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের চাচাতো ভাই।
পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে কলমাকান্দায় ৫টি সেতু নির্মাণের জন্য নেত্রকোনা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকাদাররা টেন্ডারপত্র জমা দেন। গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ্য লটারীতে নেত্রকোনার চারজন এবং কলমাকান্দার একজন ঠিকাদার কাজটি পান।
এ ঘটনায় কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চন্দন বিশ্বাস ও সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাস তার সহযোগীরা লটারীতে কাজ না পাওয়ায় লটারী বাতিল করে তাদেরকে সকল কাজ দেয়ার জন্য সোমবার দুপুর থেকে পিআইওকে চাপ দিতে থাকেন। পরে এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় তারা চড়াও হন। এক পযার্য়ে তারা অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন ও অফিস সহকারী মিজানুর রহমানকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ আওয়াল ও উত্তমকে আটক করে।
পিআইও মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, তিনি এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যে কোনো সময় তার উপরও হামলা হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
কলমাকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম জাগো নিউজকে জানান, সুজন বিশ্বাসকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মঙ্গলবার সারাদিন কর্মবিরতিসহ মানববন্ধন করেছে।
কামাল হোসাইন/এফএ/এবিএস