মধুপুরের ৩ ইউনিয়নে প্রচারণা তুঙ্গে


প্রকাশিত: ০৭:৫৫ এএম, ০৪ মে ২০১৬

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে মধুপুরের ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত হবে। এ তিন ইউনিয়নে দুইটি দলের ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শেষ পর্যায়ে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দলের প্রতীক আর ব্যক্তি ইমেজ ধরে রাখার তাগিদে প্রতিটি ভোটারের কাছে যাওয়ার চেষ্টায় তারা মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, আলোকদিয়া, গোলাবাড়ী ও মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে কেবল আলোকদিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের দুই ও বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়া বাকি দুটিতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। আ.লীগের দুই বিদ্রোহীকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পদ হারাতে পারেন বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে পদ হারানোর ভয়ে সামান্য বিচলিত নন এ তিন বিদ্রোহী। ব্যাপক প্রচার চালিয়ে তারা ভোটারদের ভোট নিজের বাক্সে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হলে দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের কাছে হারবেন বলে দাবি এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, আলোকদিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী উপজেলা আ.লীগ নেতা আবু সাইদ তালুকদার দুলাল। নিজ দলের দুই বিদ্রোহীকে সামাল দিতে তার অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা আ.লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ খান সিদ্দিক ব্যক্তি ইমেজে জয়ের লক্ষ্যে মাঠে আছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান তালুকদার ঘোড়া প্রতীকে দৌড়িয়ে পুরো ইউনিয়নে ভোটের বাক্সে নিজের পক্ষে রায় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান কাজল। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (মোটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থেকে নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। এবার দল তাকে নির্বাচন বিষয়ে নূন্যতম জিজ্ঞাসাটুকু করেনি। সক্রিয় পার্টি না করা যুবদলের নামকাওয়াস্তে একজনকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে জানান বিএনপির বিদ্রোহী আবুল কালাম আজাদ।

অপরদিকে, গোলাবাড়ী ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বাবলু ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার নিজ নিজ দলের একক প্রার্থী হয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আছেন।

তবে এ ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী নির্বিঘ্নে নির্বাচনী কাজ চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দফতরে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে একাধিক লিখিত দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মির্জাবাড়ী ইউনিয়েনে আ.লীগের শাহজাহান তালুকদার ও বিএনপির হারুন শিকদার ছাড়া তৃতীয় কোনো প্রার্থী নেই। তৃণমূল থেকে মনোনিত হওয়া আ.লীগ প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।