যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে খুন : আটক ৩


প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ১৪ মে ২০১৬
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কালুপুকুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে সেলিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

শনিবার সকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী মন্টু মিয়া (৩৫), শ্বশুর ইসরাইল মিয়া (৫৬) ও শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে (৫৩) গ্রেফতার করেছে। তবে দেবর পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, নিহত সেলিনা বেগম ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার পূর্বপাড়ার বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেব আলীর ছোট বোন।

সাহেব আলী জানান, গত ১৬ বছর আগে কালুপুকুর গ্রামের ইসরাইল মিয়ার ছেলে মন্টু মিয়ার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের শর্তে আমার বোনের বিয়ে হয়। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই বাকি ১০ হাজার টাকার জন্য স্বামী, দেবর ও শ্বশুর-শাশুড়ি সেলিনা বেগমের উপর নির্যাতন চালাত।

এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অনেকবার দেনদরবারও হয়েছে। দেন দরবারে সে টাকা গিয়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষে। কিন্তু ১ লক্ষ টাকা আমাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। তাই অনেক নির্যাতন সহ্য করে সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সংসার করে আসছিল সেলিনা।

পুনরায় ১ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য গত মঙ্গলবার তার স্বামী, দেবর ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে সেলিনা খাতুনের উপর নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার রাতে বেদম মারপিট করলে রাতের কোনো সময় সেলিনা মারা যান। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয়।

পরে পুলিশকে খবর দিলে শনিবার সকালে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারসহ তার সুরতহাল তৈরি করেন। এসময় মরদেহের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাৎক্ষণিক স্বামী মন্টু মিয়া, শ্বশুর ইসরাইল মিয়া ও শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোমিনুল ইসলাম জানান, সেলিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত করার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যৌতুকের কারণেই সেলিনা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।