বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ৫০ ডলারের নিচে নেমে গেছে। গত সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যারেল প্রতি বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪৯ ডলারে; যা সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০০৯ সালের এপ্রিলের পর এবারই জ্বালানি তেলের মূল্য এতো নিচে নামলো।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, তেলের দাম হ্রাসে আমদানিকারক দেশগুলো লাভবান হলেও এশিয়া ও ইউরোপসহ বড় দেশগুলোর শেয়ারবাজারে বিরূপ প্রভাব দেখা গেছে। চারদিনে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ভারতের শেয়ারবাজার দর হারিয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্লুমবার্গের সংবাদ অনুযায়ী, এসময়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উত্পাদনকারী দেশ দুবাইয়ের শেয়ার বাজারে পতন হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
আবুধাবির শেয়ার বাজারে আড়াই শতাংশ, কাতারে ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং সৌদি আরবের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক হারিয়েছে ৩ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার শেয়ার বাজারেও নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের দর কমেছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, বিশ্বের প্রবৃদ্ধিও ঊর্ধ্বমুখি হয়। কিন্তু বড় দর পতনে তেল উত্পাদনকারী দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে ইরাক এবং রাশিয়ার তেলক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তেল উৎপাদনে ইরাক দ্বিতীয়। ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, ইরাক প্রতিদিন ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির লক্ষ্য নিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসেও প্রতিদিন ২৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি করতো, যা গত তিন দশকে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে রাশিয়া গত ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করেছে যা সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে জালানি তেলের মূল্য হ্রাসের প্রভাব পড়েছে মুদ্রা বাজারেও। ইউরোর মূল্য ডলারের বিপরীতে কমে গেছে. যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরজুড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচেই থাকবে ।