মাংসের দাম এখনো চড়া, ছুটি শেষ হলেও জমেনি বাজার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ২৭ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো জমে ওঠেনি রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারগুলো/ছবি: জাগো নিউজ

 

বাড়তি চাহিদার কারণে ঈদে যেসব মাংসের দাম বেড়েছিল তার মধ্যে ব্রয়লার মুরগি ছাড়া সোনালি মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো চড়া রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ঈদের আগের মতোই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট রয়ে গেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো রাজধানীর বাজারগুলোতে বেচাকেনা সেভাবে জমেনি। এখনো বেশকিছু দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। ক্রেতার সংখ্যাও কম।

বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। যা ঈদের দুই-তিনদিন আগে থেকেই ঈদ পর্যন্ত ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা উঠেছিল। কিন্তু ওই সময়ে একইভাবে বেড়ে যাওয়া সোনালি মুরগির দাম কমেনি। এখনো বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা।

jagonews24

অন্যদিকে, এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগেই এই দাম বেড়েছিল। আগে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কেনা যেতো।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে গরুর মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। এখনো প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলোতে গরুর আমদানি সেভাবে বাড়েনি, যে কারণে দাম কমছে না।

রামপুরা বাজারের মাংস বিক্রেতা আবু জাফর বলেন, আরও কিছুদিন এই দাম থাকবে। আবার সামনে কোরবানির ঈদ। এরমধ্যে গরুর দাম যদি না কমে তাহলে হয়তো মাংসের দামও আর না-ও কমতে পারে।

একইভাবে বাজারে এখন খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। যা ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে আরও ৫০-১০০ টাকা কমে কেনা যেত।

তবে এখন বাজারে ফার্মের ডিমের দাম খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

jagonews24

ঈদের ছুটিতে ঢাকার পাড়া-মহল্লার বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এর ফলে সামান্য বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ে সরবরাহ কম থাকার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

এছাড়া সবজির বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতো থাকলেও বেড়েছেও কোনো কোনোটির। এর মধ্যে ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। যা এখন মান ও জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টমেটোর দাম। ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

jagonews24

এছাড়া প্রতি কেজি শিম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির মধ্যে সরবরাহ কিছুটা কম থাকার কারণে দামও বেড়েছে। এছাড়া উৎসবের কারণে ছুটির মধ্যে পরিবহনের ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে এসব পণ্যের দামে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলে সবকিছুর দাম আবারও কমে আসবে।

এনএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।