ডিএসইর কর্মশালা
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে জোর
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজারকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাল্টিপারপাস হলে ‘স্থিতিশীল পুঁজিবাজার: অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের পরিপালন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।
ডিএসইর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক সৈয়দ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজার অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, সাইবারভিত্তিক আর্থিক অপরাধ, অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহারভিত্তিক শেয়ার লেনদেন এবং বাজার কারসাজির মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আর্থিক খাতের সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, একটি স্বচ্ছ, সহনশীল ও আস্থানির্ভর পুঁজিবাজার গঠনে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অবৈধ অর্থপ্রবাহ, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট করে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। একই সঙ্গে এটি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক পুঁজিবাজার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় চারটি কার্য অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন, উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক শাহ আলম কাজী।
এমএএস/এমএএইচ/