অবরোধে কৃষকদের মাথায় হাত


প্রকাশিত: ০৭:৩৯ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৫

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে বিপাকে পড়ছে কৃষকরা। কৃষি সেচ কাজে তেল সংকট শুরু হয়েছে। যার ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। অথচ চলছে বোরো মৌসুম।

তেলের যথেষ্ট মজুদ থাকলেও অবরোধের কারণে উত্তরাঞ্চলে যথাযথভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত ১৬ দিন ধরে চলমান কর্মসূচিতে হযবরল হয়ে পড়েছে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা।
 
তেলের অভাবে জমিতে দিতে পারছেন না সেচ। তেল পরিবহনের সময় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবির পাহারার পরও শঙ্কা কাটছে না। এদিকে রেলওয়ে ওয়াগনে করে তেল পরিবহন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে ও বিপিসি যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী বলছেন, র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবি দিয়ে কতদিন চলবে। এভাবে চলা যাবে না। সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

সূত্রগুলো বলছে, সংকট উত্তরণে এরই মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে প্রতিদিন পেট্রোলের চাহিদা তিন লাখ লিটার এবং ডিজেলের চাহিদা ২২ লাখ লিটার।

কিন্তু এখন বাঘাবাড়ী ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপণন কেন্দ্র থেকে পেট্রোল ১৫ হাজার লিটার এবং ডিজেল দেড় লাখ লিটার সরবরাহ হচ্ছে। অবরোধে পরিবহন কম চলছে। সে জন্য পরিবহনে কম তেল লাগছে। তেলের সরবরাহ যথাযথ না থাকায় কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে গ্যাস থাকলেও অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে তেল সংকট শুরু হয়েছে। উত্তর জনপদের ১৬ জেলায় প্রায় ৪০০ তেলের পাম্প আছে। নিরাপত্তা বাড়িয়ে কিছু পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলেও বেশিরভাগই বন্ধ। তেল থাকলেও অনেক পাম্প অবরোধের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগানিউজকে বৃহস্পতিবার বলেন, পাম্পে তেল নিতে ডিলাররা অসুবিধায় পড়ছেন। তেলের যথেষ্ট মজুদ আছে। তবু গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা উত্তরণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে ওয়াগন বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। অবরোধে তেল না পেয়ে কৃষক পড়েছেন মহাবিপাকে। তবে আমরা চেষ্টা করছি।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এই সুযোগে অসৎ কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও অবরোধে পরিবহন চলাচল কম। সেজন্য তেলের চাহিদাও কম। তবু যে চাহিদা তাই মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের।

পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নাজমুল হক জাগোকে বলেন, পরিবহন চলছে না বলে তেলের বিক্রিও কমে গেছে। নিরাপত্তার কারণে তেলের লরি বের করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়কে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহবান জানান।

এসএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।