‘ঋণ পুনর্গঠন খেলাপি গ্রাহকদের সুবিধা দিতে নয়’
নতুন বৃহদাঙ্ক ঋণ পুনর্গঠন কাঠামোটি স্বভাবগত খেলাপি গ্রাহকদের সুবিধা দেয়ার জন্যে প্রণীত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪ সালে ঋণ পুনঃতফসিলকরণে ডাউন পেমেন্ট ও ঋণ পরিশোধ মেয়াদের ক্ষেত্রে কিছু সাময়িক নমনীয়তা আনা হয়; যা বৈরী পরিস্থিতিতে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সচল ও উৎপাদন চালু রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
২০১৪ সালে দেশব্যাপী অব্যাহত হরতাল-অবরোধে সামগ্রিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া ব্যবসায় ও শিল্প খাতের উপকরণ ও পণ্যাদির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালার ডাউন পেমেন্ট ও ঋণ পরিশোধ মেয়াদের নির্ধারিত মাপকাঠি দিয়ে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছিল না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বৃহদাঙ্ক ঋণের পরিশোধ সঙ্কটের সুষ্ঠু সমাধানের জন্যে বিশদতর, সুবিন্যস্ততর কাঠামোর প্রয়োজন দাঁড়ায়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় এতদঞ্চলে ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনের মতো উন্নয়নশীল দেশের আদলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদের অনুমোদনক্রমে একটি নতুন বৃহদাঙ্ক ঋণ পুনর্গঠন কাঠামো তৈরি করা হয়। এটি ২০১৫ সালে জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর অনুসরণের জন্যে জারি করা হয় এবং এর আলোকে জুনের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর জন্যে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
এর আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি বা তার বেশি অঙ্কের ঋণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নির্দেশ করা হয়, যাতে শুরুতে ঋণ পুনর্গঠন প্রস্তাবগুলো সীমিত সংখ্যায় সুষ্ঠুভাবে বিবেচনা সম্ভব হয়। প্রারম্ভিক পুনর্গঠন প্রস্তাবগুলোর কার্যকারিতার আলোকে আন্তর্জাতিক উত্তম রীতি-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তীতে এ পুনর্গঠন সুবিধাটির পরিধি প্রয়োজন মাফিক আরো বিস্তৃত ও সংশোধন করা যাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নতুন বৃহদাঙ্ক ঋণ পুনর্গঠন কাঠামোটি স্বভাবগত খেলাপি গ্রাহকদের সুবিধা দেয়ার জন্যে প্রণীত নয়; বরং দেশের ক্রমবর্ধিষ্ণু অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃত খেলাপি হওয়া বা ঋণ পরিশোধে সাময়িক অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে সহায়তার লক্ষ্যে প্রবর্তন করা হয়েছে।
স্বভাবগত খেলাপিদের বিষয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থানে থাকার পাশাপাশি ২০১৫ সালের মার্চে ভালো ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলে সুদহারে রেয়াত প্রদানের জন্যে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এসএ/এসকেডি/বিএ/আরআইপি