বিল বাকি ২৯ কোটি টাকা
বন্ধ বিসিকের ৮ শিল্পনগরীর কাজ, ব্যয় বাড়ানোয় জটিলতা
বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নির্মাণাধীন আট শিল্পনগরীর কাজ। ময়মনসিংহ, জামালপুর, নরসিংদী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, সিলেট, বগুড়া ও সাতক্ষীরা শিল্পনগরীর কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে। অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক অগ্রগতি ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। বাস্তব অগ্রগতি ৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ মেলেনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। ঠিকাদারের বিল বাকি ২৯ কোটি টাকা। এ অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ও সময় বাড়ানো প্রয়োজন। অথচ শিল্প সচিব বলছেন, কাজ শেষ করার স্বার্থে শুধু মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
বিসিক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
বিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী মোট ৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য বিসিকের পুরাতন আটটি শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পনগরীতে স্থাপিত শিল্পকারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। একজন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে পূর্ণকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও প্রকল্পের পাশাপাশি বিসিকের বিপণন বিভাগে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব ও চামড়া বিষয়ক প্রকৌশলী হওয়ায় বিসিক চামড়া সেলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন>> ৩৫ বছর পরেও ধুঁকছে গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরী
বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন বিভাগ) ও প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। যে কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিল দিতে পারিনি। এখন ঠিকাদারও কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ নতুন করে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হবে আরএডিপিতে (সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি)। কারণ প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর দামও বেড়েছে। বিলও ধরা হবে নতুন রেট শিডিউল অনুযায়ী। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর দরকার পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে নির্মাণাধীন ড্রেন ও রাস্তার কাজের চলতি বিল দেওয়া যাচ্ছে না বলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’
এ বিষয়ে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা জাগো নিউজেক বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজে গতি আনার জন্য গত জুলাই মাসে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হলেও তিনি বিসিকের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যান্য দায়িত্ব পালন করলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বিধায় দ্রুত প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছি।’
আরও পড়ুন>> নানা সমস্যায় জর্জরিত বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরী
ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধিসহ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিসিকের প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই হতাশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকারে কৃচ্ছ্র সাধনের লক্ষ্যে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রকল্পটি সংশোধন না করে শুধু মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প পরিচালক ঠিকাদারের বিল দেননি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারের বিল দাখিল করার পর টাকা না পাওয়ার রাস্তা ও ড্রেনের কাজ বন্ধ। ঠিকাদারের বিল না দিয়ে গত অর্থবছরে ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
তবে প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান দাবি করে বলেন, ‘বর্তমানে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণকাজ চলমান। ড্রেন নির্মাণকাজের বিপরীতে ১০ কোটি ১২ লাখ ১৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও রাস্তা নির্মাণকাজের কোনো বিল দেওয়া হয়নি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও কাজের মান পর্যালোচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবকে (পরিকল্পনা) আহ্বায়ক ও পরিকল্পনা অধিশাখার উপ-সচিবকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
জানা যায়, প্রকল্পের ব্যয় পিডব্লিউডি রেট শিডিউল ২০১৮ অনুসারে প্রাক্কলিত হয়েছে। নকশাও নেই। ফলে প্রকল্পের অবশিষ্ট পাঁচটি পূর্ত কাজ তথা অফিস ভবনসহ প্রকল্পের অন্তর্গত অন্যান্য স্থাপনার দরপত্র পিডব্লিউডি নতুন রেট শিডিউল-২০২২ এ আহ্বান করা যাচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২২ এ সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত। উক্ত সময়ে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের। মেয়াদ বাড়াতে হলে প্রকল্পের যেসব কাজের এখনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি রেট শিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় সেসব কাজের টেন্ডার আহ্বান করা যাবে না। কেননা সব কাজের ব্যয় বাড়বে। এক্ষেত্রে প্রকল্পটি সংশোধন প্রয়োজন।
এমওএস/এএসএ/এমএস