এনবিআরে প্রাক-বাজেট আলোচনা

কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখার প্রস্তাব সিএসই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
এনবিআরে প্রাক-বাজেট আলোচনা/ছবি: জাগো নিউজ

নির্দিষ্ট হারে করে দেওয়া সাপেক্ষে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না তোলার বিধান ফের চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিমার প্রসারে এ খাতের ওপর থেকে ট্যাক্স রহিত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় সংগঠনগুলো একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ দুই সংগঠন ছাড়াও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রাক-বাজেট আলোচনায় উপস্থিত ছিল।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এসময় সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন>>ব্যবসায়ীদের তোপে এনবিআর, করজাল বাড়ানোর দাবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ইমাম শাহিন বলেন, বিমা আইনে জীবন বীমা পলিসির প্রিমিয়ামের কোনো ভ্যাট প্রদান করতে হয় না। আবার এককভাবে স্বাস্থ্যবিমা করলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হয়। কিন্তু কোনো বিমা গ্রহীতা জীবন বীমার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করে পলিসি করলে স্বাস্থ্যবিমার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হয়। এতে প্রিমিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যবিমার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে, এর ওপর ট্যাক্স রহিত করার প্রস্তাব করছি। এছাড়া জীবন বীমা পলিসি হোল্ডারদের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

কোম্পানি শেয়ারের লভ্যাংশ থেকে উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিল করা, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত লভ্যাংশ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা, জিরো কুপন বন্ডের অন্য বন্ডের আয়কে কর অব্যাহতি প্রদান করা ও ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। এছাড়া নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান সাপেক্ষে পুজিবাজারে বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না তোলার বিধানটি ফের চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

সরকার ২০২১ সালে পুঁজিবাজারে এক বছর বিনিয়োগ রাখার শর্তে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রেখেছিল। একই সঙ্গে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যারা অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা বৈধ করে নেবে, তাদের কাছে অর্থেক উৎস সম্পর্কে কোনো কর্তৃপক্ষই জানতে চাইবে না। তবে গত বাজেটে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা কর দিয়ে সাদা করার সুযোগও বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট হার ২৫ শতাংশ করা, পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনতে লভ্যাংশের ওপর কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অন্যদিকে করপোরেট করের হার ৩৭ দশমিক ৫ থেকে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স। সেই সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন>>ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিবর্তে নিষ্পত্তি করতে চায় এনবিআর

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর হারের পার্থক্য সাড়ে সাত শতাংশ। এই হার সাড়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই। এছাড়া লেনদেনের ক্ষেত্রে বর্তমানে ০ দশমিক ০৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। সেখান থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ০১৫ শতাংশ করতে চায় ডিএসই।

এসময় আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম ও উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের কোনো বিকল্প নেই। অনেককিছুই সেক্রিফাইস করার মানসিকতা থাকা দরকার। সবার প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আপনাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাত্বিক আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএম/এএএইচ/জেআইএম/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।