রাজপথে ঈদ করার হুমকি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ১২ জুন ২০১৮

পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে নন-এমপিও শিক্ষকরা তৃতীয় দিনেও জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে রাজপথে ঈদ পালনের হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার জাগো নিউজকে বলেন, এমপিওভুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও পুলিশ প্রেস ক্লাবের সামনে বসতে দিচ্ছে না। সরকারের অনুমতি নিয়ে আসতে বলছে।

pressclub

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের জন্য সরকার অনুমতি কাউকে দেয় না। পুলিশ আন্তরিক নয় বলে কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে। এ কারণে প্রেস ক্লাবের মূল সড়কের বিপরীত পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আমাদের বিশ্বাস নেই। তিনি অনেকবারই এমন আশ্বাস দিয়েছেন। উনার ইচ্ছাও নেই এমপিও করার। একটা জনতুষ্টির জন্য উনি এমন আশ্বাস দেন। সময় হলে তা আবার ভুলে যান। এ কারণে গতকাল সোমবার শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।

pressclub

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, শিক্ষামন্ত্রী গত ১০ বছর ধরে বলে আসছেন বাজেটে বরাদ্দ থাকলে এমপিওভুক্ত করা হবে। অথচ মন্ত্রী নতুন করে মিথ্যাচার করছেন যে বাজেটে বরাদ্দ জরুরি বিষয় নয়। এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা গেজেট প্রকাশের ঘোষণা না আসলে শিক্ষক-কর্মচারীরা রাজপথে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করবেন।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে টানা ওই অবস্থান ও অনশনের একপর্যায়ে গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার তৎকালীন একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হয়েছে আসন্ন অর্থবছরে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন যে বাজেট প্রস্তাব করেন, সেখানে তিনি নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুষ্পষ্ট কিছু বলেননি।

এমএইচএম/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :