নব্বই দশকে গেয়েছেন অনেক সুপারহিট গান, চেনেন এই গায়িকাকে
বরাবরই সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ করেছেন উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের। তার কণ্ঠের গান আজও শ্রোতাদের মনে জাগিয়ে রাখে পুরনো দিনের নস্টালজিয়া। ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘বোম্বে’, ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’-নব্বইয়ের দশকে একের পর এক সুপারহিট গান গেয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। তিনি বলিউডের সেরা শিল্পীদের একজন। বাংলা গানেও পেয়েছেন খ্যাতি। আজ (২৫ জানুয়ারি) নব্বই দশকের এই খ্যাতিমান শিল্পীর জন্মদিন।
ভারতের নয়াদিল্লির তামিল আইয়ার পরিবারে ১৯৫৮ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। বাবা টি এস কৃষ্ণমূর্তির হাত ধরে শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। রবীন্দ্রসংগীতে তালিম নেন এবং মাত্র ৮ বছর বয়সে সংগীত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময়ে পরিচয় হয় রাণু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। গান শুনে মুগ্ধ রাণু কবিতাকে নিজের অনুষ্ঠানে গাওয়ার সুযোগ করে দেন। এরপর মান্না দের সান্নিধ্যে আসেন কবিতা, আর লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলালের তত্ত্বাবধানে বলিউডে অনেক সিনেমায় প্লেব্যাকের সুযোগ পান।

কবিতার প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ আসে ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া কন্নড় সিনেমা ‘ওন্দানন্দু কালাদাল্লি’-তে। তবে হিন্দি সিনেমায় প্রথম বড় অফার আসে ১৯৮৫ সালে ‘প্যায়ার ঝুকতা নহি’ সিনেমায়। এরপর ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘ইয়ারানা’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’ সিনেমায় তার গান ইন্ডাস্ট্রিতে এক অনন্য স্থান দখল করে।
কিশোর-রফি থেকে সোনু নিগম, অলকা ইয়াগনিক, অনুরাধা পাড়ওয়াল, শ্রেয়া ঘোষাল-অসংখ্য সংগীতশিল্পীর সঙ্গে দ্বৈত গান করে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন কবিতা। অন্যদিকে তিনি হিন্দি ছাড়াও তেলেগু, মারাঠি, উর্দু, তামিল, মালয়ালম, কন্নড়, গুজরাটি ভাষায়ও গান গেয়েছেন।

কবিতা কৃষ্ণমূর্তির গাওয়া ‘মেয়েরাও মানুষ’ সিনেমার ‘মানুষ তো খেলনা নয়’, ‘ঢাকাতে মন ঢাকা যায় না’ এবং ‘আশিক প্রিয়া’ সিনেমার ‘আমি আশিক তুমি প্রিয়া’, ‘তুমি আমার সোনা সোনা গো’, ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’, ‘আই অ্যাম হট কেক’সহ অনেক সিনেমার গান দুই বাংলাতেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর কবিতা কৃষ্ণমূর্তির সঙ্গে ‘মিলন’ নামের একটি দ্বৈত অ্যালবামে গান গেয়েছেন, যা শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল।
আরও পড়ুন:
রীতার বিরুদ্ধে মামলায় আদালতের নির্দেশ, স্বস্তিতে কুমার শানু
চলচ্চিত্রের মানুষ ও রাজনীতিবিদদের একটাই পার্থক্য : শাহরুখ

নতুন প্রজন্মের হিন্দি গান নিয়ে যদিও হতাশা প্রকাশ করেছেন কবিতা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখন অটোটিউন দিয়ে সুর ও পিচ ঠিক করে নেওয়া যায়, গান গাওয়ার আগের মতো চ্যালেঞ্জ নেই। ভালো গানের কথার অভাব টের পাই।” তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন স্বাদের গান তৈরি হচ্ছে, যা ভালো।”
বয়সের শাশ্বত সুর আর নব্বইয়ের দশকের সুপারহিট গানগুলো-কবিতা কৃষ্ণমূর্তিকে আজও শ্রোতারা চেনে, শ্রোতাদের মনে গেঁথে আছে তার অনবদ্য কণ্ঠ।
এমএমএফ/জেআইএম