বিভাগীয় শহরেও মানুষ সিনেমা দেখতে চায়: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বক্তব্য রাখছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে আজ (১০ জানুয়ারি)। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়, আমাদের বিভাগীয় শহরেও অনেক মানুষ আছেন, যারা সিনেমা দেখতে চান।’ তাই আগামী বছর থেকে এই উৎসব সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান সামনে রেখে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটিজের আয়োজনে শুরু হওয়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আজ বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি ও জলতরঙ্গ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল স্বাগত বক্তব্যে জানান, এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে উৎসবের চলচ্চিত্রের উন্মুক্ত প্রদর্শনী আয়োজন হচ্ছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান অতিথি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কক্সবাজার আয়োজনের উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা হবে।

উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে বিকেল ৫টায় প্রদর্শিত হয়েছে চীনা পরিচালক চেন শিয়াংয়ের সিনেমা ‘উ জিন ঝি লু’ (দ্য জার্নি টু নো এন্ড) এবং সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হবে ইরানি পরিচালক মোহাম্মদ আসাদানিয়ার ‘উইদাউট মি’।

৯ দিনব্যাপী উৎসবে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এবারের আয়োজনের বিভাগগুলো হলো-এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, উইমেন ফিল্মমেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ।

আরও পড়ুন:
ম্যাজিক বাউলিয়ানা: সেরা ৫-এ ওঠার লড়াই 
আবারও পর্দায় ফিরছে ‘পরাণ’ জুটি রাজ-মীম 

জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন, কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নাট্যশালা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তনে এসব প্রদর্শনী হবে। এছাড়া ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে লাবণী বিচ পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হবে ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং।

উৎসবে এবারও অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট স্ক্রিনপ্লে ল্যাব। এ ল্যাব পুরো এশিয়ার নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত এবং শীর্ষ ১০টি প্রকল্পে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে। ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মাস্টারক্লাস, যেখানে সুইস ফিল্ম ম্যাগাজিন সিনেবুলেটিনের এডিটর ইন চিফ টেরেসা ভিনা, ক্রোয়েশিয়ান নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ এবং বাংলাদেশের নির্মাতা লিটন কর উপস্থিত থাকবেন।

১৮ জানুয়ারি উৎসবের সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠান শেষে দেখানো হবে উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র এবং বিশেষ সংগীত পরিবেশন করবেন আহমেদ হাসান সানি।

এমআই/এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।