সন্ধ্যার পর প্রেক্ষাগৃহ খোলা রাখার দাবি ৫ সিনেমার নির্মাতা-প্রযোজকদের

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৭ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সন্ধ্যার পর প্রেক্ষাগৃহ খোলা রাখার দাবি ৫ সিনেমার নির্মাতা-প্রযোজকদের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই ঘোষণার আওতায় বিভিন্ন সন্ধ্যার পর সিনেমার প্রদর্শনীও বন্ধ থাকবে।

এ কারণে ব্যবসায়িকভাবে হোঁচট খেয়েছেন নির্মাতা ও হলমালিকেরা। তাই দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থে শপিংমলে অবস্থিত সব প্রেক্ষাগৃহ সরকারি সময়সীমার আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচ সিনেমার প্রযোজক-পরিচালকেরা।

এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন ‘দম’-এর পরিচালক রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ‘প্রেশার কুকার’-এর নির্মাতা রায়হান রাফী, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পরিচালক তানিম নূর ও প্রযোজক⁠ সাকিব আর খান, ‘রাক্ষস’-এর প্রযোজক ⁠শাহরিন আক্তার সুমি ও ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’র প্রযোজক ⁠শিরিন সুলতানা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার গৃহীত সন্ধ্যা ৭টার পর বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখার পদক্ষেপের প্রতি আমরা সর্বাত্মক শ্রদ্ধাশীল। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে শপিংমলের অভ্যন্তরে থাকা সিনেমাহল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ও সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

শো-টাইম ও দর্শকের চাহিদার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, ‘ঈদের চলচ্চিত্র মানেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপচেপড়া ভিড়। আর প্রেক্ষাগৃহের জন্য সন্ধ্যা ও রাত হলো ‘প্রাইম টাইম’। কর্মব্যস্ততা শেষে অধিকাংশ দর্শক সন্ধ্যার পরপরই সপরিবারে ছবি দেখতে আসেন। সন্ধ্যা ৭টায় প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিলে বিশালসংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।’

বিগত দিনের নিয়ম ও প্রেক্ষাপটের আলোকে নির্মাতারা বলেছেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি, মার্কেট বা বিপণিবিতান নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমাহল সেই নিয়মের আওতামুক্ত থাকতো। সাধারণত রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাহল খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হতো। মার্কেটের নিরাপত্তা বজায় রেখেও সিনেমাহলের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব, যা আগেও সফলভাবে হয়েছে।’

চলচ্চিত্র শিল্পের অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘একটি সিনেমা নির্মাণের পেছনে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে। উৎসবের এই কয়েকদিনেই সেই বিনিয়োগ তুলে আনার প্রধান সময়। পিক-আওয়ারে সিনেমাহল বন্ধ থাকলে লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য খুবই খারাপ হবে।’

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পক্ষে ঈদের সিনেমার প্রযোজক-পরিচালকদের আবেদন, ‘সিনেমাহল মার্কেটের সাধারণ দোকানের আওতামুক্ত রেখে আগের মতো মার্কেট বন্ধ থাকলেও সিনেমাহল চালু রাখার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের বাধিত করবেন।’

নির্মাতারা বলছেন, ‘চলচ্চিত্র সবচেয়ে বড় বিনোদন মাধ্যম ও সৃজনশীল শিল্প। কয়েক বছর ধরে দর্শক-শিল্পী-কলাকুলদের সহযোগিতায় এই শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দর্শকদের ঈদ আনন্দের পূর্ণতা দিতে এবং প্রযোজকদের বিনিয়োগ ফিরে পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সহমর্মিতামূলক পদক্ষেপ কামনা করছি।’

 

এমআই/এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।