স্যার, আপনাকে খুব মিস করছি : মিম

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০২০

লাক্স তারকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বিদ্যা সিনহা মিম। প্রথম কাজ হিসেবেই তিনি অভিনয় করেছিন কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ‘আমার আছে জল’ সিনেমায়। সেই কাজ ক্যারিয়ারের সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে আছে মিমের জন্য।

আজ হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিনে মিম স্মৃতির জানালা খুলে দিলেন। প্রিয় স্যারকে স্মরণ করলেন শ্রদ্ধায়। বিস্তারিত পড়ুন জাগো নিউজকে দেয়া মিমের সাক্ষাৎকারে-

জাগো নিউজ : ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদের সিনেমা দিয়ে। প্রথম কাজ, প্রথম সিনেমা। যখন শুনলেন কাজটিতে আপনি সুযোগ পাচ্ছেন সেই আবেগটা কেমন ছিলো?
মিম : ছোটবেলা থেকেই তার বই পড়ার ঝোঁক ছিলো। তাকে একটা স্বপ্নের মতো মনে হতো। তার লেখাগুলো, তার বিভিন্ন চরিত্রগুলো ছিলো ভিষণ প্রিয়। তো যখন শুনলাম যে সেই শৈশবের প্রিয় লেখকের উপন্যাসের চরিত্রে কাজ করবো আমি খুব উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম। একটা ভয় কাজ করছিলো। কেমন হবে পরিবেশ, কীভাবে কাজ করবো, পারবো কি না এইসব। আবারও অনেক আনন্দও হচ্ছিলো।

জাগো নিউজ : সেই সিনেমায় তার সঙ্গে কাজের স্মৃতিগুলো কেমন ছিলো?
মিম : আমি তো একেবারে নতুন একটি মেয়ে, মিডিয়াতে সবে পা দিলাম। সেটাও সিনেমা দিয়ে। বিখ্যাত লেখক ও পরিচালকের সঙ্গে, বিখ্যাত সব অভিনয় তারকাদের সঙ্গে। তো ভয়ের একটা বিরাট ব্যাপার ছিলো। সেই ভয়টা যেন না থাকে সেজন্য হুমায়ূন স্যার আগে থেকেই চেষ্টা করেছেন। সিনেমা শুরু করার আগেই বেশ কিছু মিটিং হয়েছে। যেখানে সিনেমার অনেকেই ছিলেন। স্যার অনেক মজা করতেন, যেন আমি হতে পারি। সেগুলো বেশ মজার অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।

আর সিনেমাটিরে শুটিং শুরু থেকে শুরু করে শেষ হওয়া পর্যন্ত সবই ছিলো দারুণ অভিজ্ঞতার। অনেক মজা করে কাজটি করেছিলাম সবাই। নতুন হিসেবে অনেক সহযোগিতা পেয়েছিলাম আমি।

জাগো নিউজ : হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতিটা কি মনে পড়ে? কী কথা হয়েছিলো?
মিম : প্রথম তাকে দেখার অনুভূতিটা আসলে বলে বোঝাতে পারবো না। আমরা দশজন প্রতিযোগী ছিলাম লাক্সের। তিনি এলেন। ‘আমার আছে জল’ বইটা সবাইকে দিলেন। সেদিন তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তিনি বলছিলেন, আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।

জাগো নিউজ : তার সঙ্গে শেষ দেখার স্মৃতি.....
মিম : সম্ভবত একটি নাটকের কাজ করেছিলাম শেষবারের মতো স্যারের সঙ্গে। সালটা মনে নেই। ওই নাটকের পর তো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তারপর আর কাজও করা হলো না, দেখাও হয়নি।

জাগো নিউজ : এমন বিশেষ কোনো কথা আপনাকে বলেছিলো যা আপনার খুব মনে পড়ে বা ক্যারিয়ারে কাজ করতে গিয়ে প্রেরণা যুগিয়েছে?
মিম : আমি স্যারের বই পড়েছি। অনেক উক্তিই তার প্রভাবিত করে আমাকে। তবে ‘আমার আছে জল’ ছবিটি আমার ক্যারিয়ারে খুব প্রভাব ফেলেছে। যেখানেই গিয়েছি সবাই এই ছবিটির জন্য আমাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। একটা আলাদা সম্মান পেয়েছি। এই সিনেমাটি আমার একটি পরিচয়ের মতো।

জাগো নিউজ : কিন্তু একটা রিউমার শোনা যায় যে হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ ছবিতে কাজ করে আপনি নাকি সন্তুষ্ঠ নন। এটি আসলে কতটুকু সত্যি?
মিম : বিষয়টা এভাবে বলা যায় না ঠিক। আসলে যখন আমি কাজটি করেছিলাম তখন নতুন ছিলাম। অভিনয়টা হয়তো ঠিকভাবে হয়ে ওঠেনি। এত চমৎকার একটি গল্প ও চরিত্র। আরও অনেক কিছু করার সুযোগ ছিলো। যদি ওই সিনেমাটি এখন করতাম মনে হয় অনেক বেশি তৃপ্তি পেতাম।

জাগো নিউজ : জন্মদিনে যে কথাটি বলতে চান স্যারের উদ্দেশ্যে.....
মিম : যখন আমি ‘আমার আছে জল’ ছবিতে কাজ করলাম তখন ইচ্ছে করলেও স্যারের সঙ্গে খুব একটা কথা বলতাম না। ভয়ে। অনেক আড্ডায় আমি ছিলাম। কিন্তু নতুন হিসেবে ইজি হতে পারতাম না। যেমন সেই ছবিতে আমি কাজ করেছিলাম জাহিদ হাসান ভাই, ফেরদৌস ভাইয়ের সঙ্গে। প্রথম ছবি হিসেবে সেসময় তাদের ভয় পেতাম বা একটা আনইজি ফিল হতো। এখন কিন্তু দুজনের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক আমার। তারা বোনের মতো আদর করেন। মিশি বন্ধুর মতো। স্যারকে পেলে উনার সঙ্গেও সম্পর্কটা ইজি হতো। অনেক কিছু শিখতে পারতাম, আরও ভালো কাজ করতে পারতাম। স্যার তখন প্রায়ই বলতেন আমি লাজুক, কথা বলি না। এখন হয়তো আর এগুলো বলতেন না। আজকের জন্মদিনটা অনেক উৎসবুমখর হতো স্যার থাকলে। তাই আজ স্যারের উদ্দেশ্যে অবশ্যই আমি এটা বলবো যে- ‘স্যার, আপনাকে খুব মিস করছি’।

এলএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]