চট্টগ্রামে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস পাবে ১৩ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
ফাইল ছবি

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ শিশুকে ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এরমধ্যে ৬–১১ মাস বয়সীদের একটি করে নীল রঙের (এক লাখ ইউনিটের) এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের (দুই লাখ ইউনিটের) ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে এ ক্যাম্পেইন। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: ভিটামিন এ’র সাফল্য : রাতকানা রোগী এক শতাংশেরও কম

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ছয় মাসের কম ও পাঁচ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় শিশুদের ক্যাপসুল না খাওয়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

আগের বছরগুলোতে সপ্তাহ কিংবা চার দিনব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন করা হলেও এবার একাধিক দিনে এই ক্যাম্পেইন চলছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জটলা বা বেশি মানুষের ভিড় এড়াতে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: ভিটামিন ক্যাপসুলে মানুষের আয়ু বেড়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় ৬–৫৯ মাস বয়সী সব মিলিয়ে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ শিশুকে এবার ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরমধ্যে ৬–১১ মাস বয়সী এক লাখ ৭২ হাজার ৯১৮ জন ও ১২–৫৯ মাস বয়সী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪৬ জন শিশু রয়েছে।

মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এরমধ্যে ৬–১১ মাস বয়সী ৮১ হাজার এবং ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা চার লাখ ৫৫ হাজার জন।

আরও পড়ুন: শিশুদের অন্ধত্ব দূরীকরণে মায়েদের সচেতন হতে হবে

অন্যদিকে জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট আট লাখ চার হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া জানান, লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯১ হাজার ৯১৮ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা সাত লাখ ১২ হাজার ৬৪৬ জন। জেলার ১৬টি স্থায়ী ও চার হাজার ৮০০টি অস্থায়ী কেন্দ্রে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

আরও পড়ুন: ক্যানসার আক্রান্ত ৮০ শতাংশ শিশুই চিকিৎসায় সুস্থ হয়

চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী জানান, রাতকানা রোগের প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করাই ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, এ ক্যাপসুল খেলে শিশুদের সমস্যা হয় না। তবে খালি পেটে খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে। এজন্য শিশুদের ভরা পেটে ক্যাপসুলটি খাওয়াতে হয়। তবে কোনো শিশু গত চার মাসের মধ্যে এ ক্যাপসুল খেলে তাকে আর খাওয়ানো যাবে না। এছাড়া অসুস্থ এবং ছয় মাসের কম বয়সী ও পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

ইকবাল হোসেন/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।