উচ্চমাত্রার প্রস্তুতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের একাংশ/ ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর (আইআরজিসি) চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়কারী উপ-প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবোল্লাহ সাইয়ারি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে সাইয়ারি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, সেনাসদস্যদের দৃঢ় মনোবল, লড়াইয়ের স্পৃহা, অটল বিশ্বাস ও জনগণের প্রত্যক্ষ ও শক্তিশালী সমর্থনের কারণে এই প্রস্তুতি এখন একটি অস্বীকার্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল আরও বলেন, সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা জোরদারে তরুণ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিবেদিতপ্রাণ এই সেনাসদস্যরাই সশস্ত্র বাহিনীর মূল ভিত্তি। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে তরুণ বাহিনীর কার্যকারিতা ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত, যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ চলাকালীন তাদের গৌরবোজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সে।

তার মন্তব্য, বর্তমানে বাহিনীগুলো একই চেতনায় কাজ করছে, তবে এখন তারা উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের সুবিধাও পাচ্ছে। এর ফলে তারা অত্যন্ত দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে সাইয়ারি বলেন, ওই যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের প্রতিরোধের পরও বাহিনীর প্রস্তুতি কখনো শিথিল হয়নি, বরং তা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা অনুযায়ী কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে প্রস্তুতির মাত্রা ধারাবাহিকভাবে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়া।

২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও বিনা উসকানিতে আগ্রাসন চালায়। এই ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হয় ১২ দিনের যুদ্ধ, যাতে ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।

এই যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত ভূখণ্ডজুড়ে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়। পাশাপাশি কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হানে, যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

পরে ২৪ জুন ইরান ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্র- উভয়ের বিরুদ্ধে সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে এই আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয় বলে জানানো হয়।

সূত্র: মেহের নিউজ

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।