গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন: ট্রাম্পকে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর মেটে ফ্রেডেরিকসেন/ ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

গ্রিনল্যান্ড দখল বা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে নেওয়ার বিষয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা একেবারেই অর্থহীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো অধিকার নেই।

মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও বলেন, ড্যানিশ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনো একটিকেও যুক্তরাষ্ট্রের সংযুক্ত করার অধিকার নেই।

ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এসেছে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের একটি টুইটের পর। ওই টুইটে তিনি গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙিয়ে ‘শিগগিরই’ শব্দটি লিখে পোস্ট করেন।

এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কথা উল্লেখ করে এমন দাবি করেন। ফ্রেডেরিকসেনের বক্তব্যের পরও ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি; বরং আরও জোর দিয়ে একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন।

ডেনিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘খুব স্পষ্ট’ ভাষায় কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডেনমার্ক ও সেই সূত্রে গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো সদস্য ও জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায়। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক এরই মধ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করছি, একটি ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এবং আরেকটি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করতে, যারা খুব স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।

এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, আর ডেনমার্ক সেটা করতে পারবে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত কেটি মিলারের পোস্টের জবাবে একটি বন্ধুসুলভ বার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক মিত্র দেশ এবং ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে।

এই কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ এর আগের দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে ও মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

ভেনেজুয়েলায় হামলা করার আগ থেকেই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলে ট্রাম্প। এমনকি এ জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে, কারণ দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিপুল মজুত রয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে বসবাস করেন প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ। ১৯৭৯ সাল থেকে অঞ্চলটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষ ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা চান। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।