রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র, কী করবেন পুতিন?
আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাহাজটি জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় মস্কো–ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জব্দ হওয়া পুরোনো ও জীর্ণ জাহাজটির আগের নাম ছিল ‘বেলা ওয়ান’। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। অভিযোগ ছিল, এটি ইরানের অবৈধ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ।
গত মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড প্রথমবার জাহাজটি আটকানোর চেষ্টা করে। তখন এটি গায়ানার পতাকাবাহী হিসেবে চলাচল করছিল। তবে জাহাজের ক্রুরা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে জাহাজে উঠতে দেয়নি এবং হঠাৎ করে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে দিক পরিবর্তন করে।
আরও পড়ুন>>
ইউক্রেনের বদলে ভেনেজুয়েলা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন সমঝোতা রাশিয়ার?
আটলান্টিকে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় সাবমেরিন মোতায়েন রাশিয়ার
আটলান্টিক থেকে রাশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ আটক করলো যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তীতে জাহাজটির গায়ে রাশিয়ার পতাকা আঁকা হয় এবং রাশিয়ার শিপিং রেজিস্টারে নতুন নাম ‘মারিনেরা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কীভাবে জব্দ হলো জাহাজটি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে জানা যায়, অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও বিমানগুলো পুনর্বিন্যাস করে। গত কয়েক দিনে যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে ভি-২২ অস্ট্রে বিমানগুলোকে প্রশিক্ষণ মিশনে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি রোববার মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায় দুটি এসি-১৩০ গানশিপ।
জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক জানায়, আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ১৯০ মাইল দূরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বুধবার জাহাজটি জব্দ করা হয়। ওই সময় জাহাজটি হঠাৎ দক্ষিণ দিকে মোড় নেয়।
In two predawn operations today, the Coast Guard conducted back-to-back meticulously coordinated boarding of two “ghost fleet” tanker ships— one in the North Atlantic Sea and one in international waters near the Caribbean. Both vessels —the Motor Tanker Bella I and the Motor… pic.twitter.com/EZlHEtcufX
— Secretary Kristi Noem (@Sec_Noem) January 7, 2026
রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জাহাজে ওঠার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নেভি সিল সদস্যরা অংশ নেন। ‘নাইট স্টকারস’ নামে পরিচিত সেনাবাহিনীর ১৬০তম বিশেষ বিমান রেজিমেন্টের হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তারা অভিযানে সহায়তা দিয়েছে।
কী বলছে রাশিয়া
জাহাজ জব্দের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী অন্য দেশের বৈধভাবে নিবন্ধিত জাহাজের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। এখানে উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে সই করেনি।
জাহাজে থাকা রুশ নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রুশ আইনপ্রণেতা লিওনিদ স্লুতস্কি এই ঘটনাকে ‘একবিংশ শতাব্দীর জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এই ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা নেই। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক।
এদিকে চীনও এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।
আরও জাহাজ জব্দের ইঙ্গিত
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল পরিবহন রোধ করাই তাদের লক্ষ্য।
তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে অন্তত ১৬টি জাহাজে তেল বা জ্বালানি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো জাহাজ এআইএস ট্রান্সমিটার বন্ধ করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জব্দ অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
কেএএ/