প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১০ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
এরদোয়ান ও শাহবাজ। ছবি: এএফপি (ফাইল)

প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সহিংসতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হারাজ বলেন, তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তিটি গত বছর ঘোষিত পাকিস্তান–সৌদি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আলাদা। তিনি জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে হলে তিন দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান–সৌদি আরব–তুরস্ক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এরই মধ্যে পাইপলাইনে রয়েছে। খসড়া চুক্তি আমাদের কাছেও আছে, সৌদি আরবের কাছেও আছে এবং তুরস্কের কাছেও আছে। তিন দেশই এটি নিয়ে আলোচনা করছে। গত ১০ মাস ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আলোচনা হয়েছে ঠিকই, তবে এখনো কোনো চুক্তি সই হয়নি।

ফিদান বলেন, আঞ্চলিক অবিশ্বাসের কারণে যে বিভাজন ও সমস্যা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বহিরাগত শক্তির আধিপত্য, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, সব আঞ্চলিক দেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে একসঙ্গে বসে একটি সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একে অপরের ওপর আস্থা রাখলে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৃহত্তর সহযোগিতার কাঠামো তৈরির দিকে বলে উল্লেখ করেন ফিদান, যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তান বা সৌদি আরবের নাম নেননি।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে (এসএমডিএ) যোগ দিতে তুরস্ক উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রী হারাজ স্পষ্ট করেন, নতুন এই খসড়া চুক্তিটি এসএমডিএ থেকে আলাদা।

পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ–১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণ করেছে এবং ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর পাকিস্তান যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর আমাদের যুদ্ধবিমানের চাহিদা বেড়েছে। অনেক দেশই আমাদের কাছ থেকে এসব বিমান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে পাকিস্তান বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

সূত্র: জিও নিউজ

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।