ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা, সব ফ্রন্টে প্রস্তুত ইসরায়েলও
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে এর জেরে তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা হতে পারে- এমন আশঙ্কায় সব ফ্রন্টে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের উত্তর কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলো এই তথ্য জানিয়েছেন।
চ্যানেল ১২ নিউজে সম্প্রচারিত বক্তব্যে মিলো বলেন, আমরা জানি না পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে।
মিলো জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুত ও সতর্ক আছি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তার প্রভাব ইসরায়েলে পড়তে পারে। ইরানের প্রতিক্রিয়ার একটি অংশ এখানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়া তিনি জানান, হিজবুল্লাহ কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মিলো বলেন, আমরা অত্যন্ত সতর্ক, অত্যন্ত প্রস্তুত। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, তেমনি পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তিনি দুটি ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছেন- শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে ‘সতর্কতার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের একটি বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।
প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে।
এদিকে, শুক্রবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় ইসরায়েল যখন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছিলেন।
চ্যানেল ১২ এর হাতে পাওয়া একটি চিঠি অনুযায়ী, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান শমুয়েল জাকাই সপ্তাহান্তে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে জানান, অঞ্চলটি হয়তো ‘আরও সংবেদনশীল এক পর্যায়ে’ প্রবেশ করছে।
চিঠিতে জাকাই লেখেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো ‘গতিশীল’ ও প্রয়োজন হলে ইসরায়েল আবারও আকাশসীমা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই চিঠি প্রকাশের পর জাকাই বিমান সংস্থাগুলোকে একটি ব্যাখ্যামূলক বার্তা পাঠিয়ে বলেন, তিনি আসলে আগের সপ্তাহের শেষের কথা উল্লেখ করেছিলেন। যদিও মূল চিঠিতে আসন্ন সপ্তাহান্তের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এদিকে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এল আল, আরকিয়া ও ইসরায়ার বিমান সংস্থা যাত্রীদের টিকিট বাতিলের শর্ত কিছুটা শিথিল করেছে। অনেক যাত্রীই ফ্লাইট বাতিল হতে পারে- এই আশঙ্কায় বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
বর্তমানে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্রগামী কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এরই মধ্যে কিছু বিমান সংস্থা আগাম সতর্কতা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল করেছে। ডাচ বিমান সংস্থা কেএলএম শনিবার (২৪ জানুয়ারি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা মধ্যপ্রাচ্যের বড় একটি অংশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে।
কেএলএম ডাচ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএসকে জানায়, তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদের উদ্দেশ্যে তাদের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাক, ইরান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা দিয়েও তারা উড়বে না।
অন্যদিকে, ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুবাইগামী ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। একদিন আগে তারা ওই রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ‘রিয়েল টাইমে’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ