মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের দাবি সেনা-সমর্থিত দলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের লাশিওতে সেনা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি’র চেয়ারম্যান খিন ই’র ছবি সম্বলিত একটি বিলবোর্ড/ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তোলা ছবি/এএফপি

মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের দাবি করেছে দেশটির সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দলটি এই দাবি জানায়।

২০২১ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এটিই ছিল মিয়ানমারের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যার মাধ্যমে একটি নতুন সরকার গঠনের পথ খুলে গেললো বলে মনে করা হচ্ছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাবেক এক জেনারেলের নেতৃত্বাধীন ইউএসডিপির এই জয় আগে থেকেই অনুমিত ছিল। কারণ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল ভিন্নমত। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর ফলে সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের পছন্দের দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

সমালোচকদের মতে, সামরিক সরকারের আয়োজিত এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, বরং ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর নিজেদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা ছিল এই ভোট। সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা মিয়ানমারকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

তিন ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়- ২৮ ডিসেম্বর, ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। দেশটির মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৬৭টি টাউনশিপে ভোট হয়নি। এসব এলাকা মূলত সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ৬৬৪ সদস্যের জাতীয় পার্লামেন্টে আসনের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫৮৬-তে।

জাতীয় ও আঞ্চলিক আইনসভায় আসনের জন্য ৫৭টি রাজনৈতিক দলের ৪ হাজার ৮০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে এর মধ্যে মাত্র ছয়টি দল সারা দেশে প্রার্থী দেয়।

ইউএসডিপির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত ধাপে নিম্নকক্ষের যে ৬১টি আসনে ভোট হয়েছিল, তার মধ্যে দলটি ৫৭টি আসনে জয় পেয়েছে। তথ্য প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, উচ্চকক্ষ ও আঞ্চলিক আইনসভাগুলোর আসনের ভোট গণনা এখনো চলছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পার্লামেন্টের দুই কক্ষে অন্তত ২৯০টি আসন পেতে যাচ্ছে ইউএসডিপি। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ ১৬৬টি আসন যোগ হলে, উভয়ে মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫০-এর বেশি। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৪ আসনের তুলনায় অনেক বেশি।

সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সেনাবাহিনী মনোনীত প্রতিনিধিরা তিনজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবেন। এরপর তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হবে। বাকি দুইজন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন।

নতুন পার্লামেন্ট বসলে বর্তমান সামরিক সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন- এমনটাই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সঙ্গে কাজ করা বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নির্বাচনের ফলাফল ও এরপর গঠিত যেকোনো ক্ষমতার বন্দোবস্ত প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার নির্বাচনের সমালোচনার জবাবে মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমারে যারা বসবাস করে, তারাই ভোট দেয়। বাইরের কেউ নয়। তিনি আরও বলেন, বিদেশি দেশগুলো এটি স্বীকৃতি দেবে কি দেবে না, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। আমরা জনগণের ভোটকে স্বীকৃতি দিই। বিষয়টি এমনই হওয়া উচিত।

সূত্র: এপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।