ডেটা সেন্টারের বিশ্বকেন্দ্র হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল অবকাঠামো দৌড়ে ভার্জিনিয়াকে পেছনে ফেলে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে আরেক অঙ্গরাজ্য টেক্সাস। রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জোন্স ল্যাং লাসাল (জেএলএল)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টেক্সাস বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার বাজারে পরিণত হতে পারে।

২০২৬ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের এআই বিনিয়োগ

বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে নতুন ডেটা সেন্টারের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

নির্মাণের এক-পঞ্চমাংশই টেক্সাসে

জেএলএল-এর ‘নর্থ আমেরিকা ডেটা সেন্টার রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টারের ৬ দশমিক ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতা শুধু টেক্সাসেই হচ্ছে যা দেশের মোট পাইপলাইনের প্রায় ২০ শতাংশ।

এই সক্ষমতা তিনটি হুভার ড্যামের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমান, কিংবা প্রায় ১৭ হাজার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালানোর মতো শক্তির সমতুল্য । একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ গিগাওয়াট নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণাধীন রয়েছে যা যুক্তরাজ্য বা ইতালির বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান।

কেন এগিয়ে টেক্সাস?

বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের বিস্তীর্ণ জমি, শক্তিশালী জ্বালানি অবকাঠামো এবং ব্যাবসাবান্ধব করনীতি-এই তিনটি বড় কারণ ডেটা সেন্টার নির্মাণে রাজ্যটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে এআই-চালিত প্রযুক্তির বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করছে তখন টেক্সাসের শক্তি সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এআই বাবলের আশঙ্কা?

ওয়াল স্ট্রিটের কিছু বিশ্লেষক এত বিপুল বিনিয়োগকে সম্ভাব্য ‘এআই বাবল’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে অন্যরা মনে করছেন, এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল অর্থনীতিতে টেক্সাসের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বিস্ফোরণধর্মী চাহিদা টেক্সাসকে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাচ্ছে।

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।