যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে মাথা নত করবে না ইরান। নতি স্বীকার না করার এমন অঙ্গীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তিতে বাধ্য করতে প্রয়োজনে ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণার পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ মন্তব্য করেছেন পেজেশকিয়ান।
তেহরানে প্যারালিম্পিক দলের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা কোনো চাপ বা কঠিন পরিস্থিতির সামনে মাথা নত করব না। বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে একজোট হয়েছে, কিন্তু আমরা নতি স্বীকার করব না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং জেরাল্ড ফোর্ড দুটি বিমানবাহী রণতরি ও শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটি ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব গণমাধ্যম জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরব সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে রওনা হয়েছে।
ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সতর্ক বার্তা হিসেবে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, এই সামরিক প্রস্তুতিকে ‘কেবল বক্তব্য’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারা জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে কোনো আগ্রাসনের জবাব হবে ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’।
চলতি মাসে ওমানে এবং পরে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাছি জানিয়েছেন, একটি কূটনৈতিক সমাধান হাতের নাগালে রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার কথাও স্বীকার করেন।
তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক নারী আল জাজিরাকে বলেন, নিজেদের জন্য না হলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা চিন্তিত। তবে কেউ কেউ আশাবাদীও। একজন বাসিন্দা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে তারা ইরানকে সহজে পরাস্ত করতে পারবে না।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর কাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএম