‘খোরদাদ-৩’
বিধ্বস্ত করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, নিরাপদ রাখছে ইরানের আকাশ
নিজেদের আকাশ নিরাপদ রাখতে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্মোচন করার পাশাপাশি এর সফল পরীক্ষার দাবি করেছে ইরান। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, আইআরজিসির এয়ারোস্পেস ফোর্সের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি অত্যাধুনিক মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, তিনটি ড্রোন (এমকিউ-৯ এবং হারমিস), এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে, আইআরজিসির স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও প্রতিহত করেছে।
ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, আইআরজিসির (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।
ইরানের আকাশ নিরাপদ রাখবে ‘খোরদাদ-৩’
ইরানের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম খোরদাদ-৩। এটি মাঝারি পাল্লার সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এই ব্যবস্থা আকাশের দিকে ২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সম্ভব। ইরানের বিজ্ঞানীরা এর মূল কারিগর দাবি করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাশিয়ার এস-৩০০ সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের নকল।
আরও আছে রুশ ‘এস-৪০০ এবং চীনের ‘এইচকিউ-৯বি’
খোরদাদ-৩ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও ইরানের কাছে রাশিয়ার উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ রয়েছে। রুশ প্রযুক্তি এই লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও ইরানের হাতে আছে চীনের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এইচকিউ-৯বি। ২০২৫ সালের জুনে লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেমের চালান ইরান পেয়েছে বলে জানা গেছে। এটি ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
ইরানের খতম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স ঘাঁটির দায়িত্বে থাকা আরেক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটি খুব শিগগির নিজের আকাশসীমার ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের তৈরি এই প্রযুক্তি ধাপে ধাপে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে শত্রুর দুর্বলতা বিশ্ববাসীর সামনে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।
ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাইলটকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি মার্কিন হেলিকপ্টারও ইরানের গুলির মুখে পড়ে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান দ্রুত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছায় বা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করে, তাহলে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় চমক অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, মিডল ইস্ট আই,তাস, গ্লোবাল ডিফেন্স নিউজ
কেএম