মার্কিন নৌ-অবরোধ
বন্ধু দেশগুলোর জন্য আগেই ১৭ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছে ইরান
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধের আশঙ্কা আগেই করেছিল ইরান। এই সম্ভাব্য মার্কিন কর্মকাণ্ডের পাল্টা প্রস্তুতিও আগেই নিয়ে রেখেছিল ইরান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাগদাদ টুডে সংবাদ পোর্টালের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান আগাম ধারণা করে যে ওয়াশিংটন তাদের বন্দরগুলো অবরোধ করতে পারে। তাই ইরান এর মধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো এখন প্রায় অদৃশ্যভাবে (স্টেলথ মোড) চলাচল করছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় এসব জাহাজ ট্র্যাক করা মার্কিন বাহিনীর জন্য খুবই কঠিন।
পোর্টালটি জানায়, ইরান তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতার চেয়েও বেশি পরিমাণ তেল সমুদ্রে পাঠিয়েছে, যা প্রায় ৮০ দিনের জন্য তাদের বন্ধুরাষ্ট্র তথা অংশীদারদের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।
পারস্য উপসাগরে সংঘাত শুরুর আগেই ইরান এই প্রস্তুতি শুরু করে। সে সময় তারা স্বাভাবিকের তুলনায় তিনগুণ দ্রুত গতিতে ট্যাংকারগুলোতে তেল লোড করছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘সমুদ্রভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’-তে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন (১৭ কোটি) ব্যারেল তেল থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করা এসব ট্যাঙ্কার থেকে অন্যদেশের ট্যাঙ্কারে তেল লোড করতে পারবে বন্ধু রাষ্ট্রের তেলবাহী জাহাজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ট্যাংকার এখন ‘স্টেলথ মোডে’ চলাচল করছে, যার ফলে এগুলোকে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ এসব ইরানি জাহাজের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
কেএম