মুক্তি পেয়েছে তুসকা জাহাজের ৬ ইরানি ক্রু, এখনো আটক ২২
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ইরানি কন্টেইনার জাহাজ তুসকা জব্দ করে। ২০ এপ্রিল জব্দকৃত জাহাজটি ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি ক্রু সদস্য ছিলেন। জব্দকৃত তুসকা জাহাজের ৬ ক্রু সদস্যকে মুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও ২২ জন ক্রু সদস্য আটক অবস্থায় আছেন।
ইরান জানিয়েছিল যে, ইরানি ক্রু সদস্য ও তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে ওই মুহূর্তে জাহাজটিতে হামলা ও সেনা মোতায়েন করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছিল এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
তাসনিম প্রতিবেদক জানতে পেরেছেন, ইরানের ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার ফলে এই পর্যায়ে ৬ জন ইরানি ক্রু সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন। মার্কিন প্রশাসনের কাছে বন্দি বাকি ২২ জন ইরানি ক্রু সদস্যের স্বাধীনতার জন্য ইরানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ইরানের খাতামুল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স বলেছে, ওমান উপসাগরে ইরানি কন্টেইনার জাহাজ তুসকা-এর ওপর মার্কিন নৌ হামলার সামরিক জবাব ক্রু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একবার পরিবার ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা গেলে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চীন থেকে ইরানের দিকে যাত্রাকালে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি কন্টেইনার জাহাজ তুসকা আক্রমণ করে এবং এরপর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল এবং ইঞ্জিন রুম খালি করার বিষয়ে ছয় ঘণ্টাব্যাপী বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করেছে।
এই হামলার জবাবে ইরানি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক জাহাজের দিকে ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে আইন অমান্যের অভিযোগে ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশের ট্যাঙ্কার জব্দ করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। ওই সংঘাতে ইসলামী বিপ্লবের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একই দিন মিনাবের একটি স্কুলে চালানো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হয়।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম