মানবতাবিরোধী অপরাধ

চার মামলায় দণ্ডিত ৫৫, আরও চারটিতে বিচার শেষ পর্যায়ে

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের একগুচ্ছ মামলার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে/ছবি: এআই নির্মিত

২০২৪ সালে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একগুচ্ছ মামলার বিচার চলছে। আওয়ামী লীগ আমলে গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে নৃশংসতার অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে ঘোষিত রায়ে ৫৫ জন দণ্ডিত হয়েছেন। আরও চারটির বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে ২২টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে একটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় এবং তিনটি তার আগের ধাপ, অর্থাৎ যুক্তিতর্কের স্তরে আছে। চারটি মামলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হতাহত সম্পর্কৃত।

বিচার চলমান ২২ মামলায়

মামলার সর্বশেষ তথ্যের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে বিচার চলছে ২২টি মামলার আর ৪১টির বিচার প্রক্রিয়াধীন।

চলমান মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৫০ জনের বেশি। গ্রেফতার আসামির সংখ্যা কমপক্ষে ১৬০ জন, পলাতক ২৯৩ জন, জামিন পেয়েছেন একজন ও মারা গেছেন একজন। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিসহ অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তি ৭৪ জন, পুলিশ সদস্য ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর সদস্য ২০ জন ও আনসার সদস্য একজন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হতে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুটি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি রায় ঘোষণা হয়েছে। এতে সাজাপ্রাপ্ত মোট আসামি ৫৫ জন।

রায়ের অপেক্ষায় থাকা মামলা

গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহতসহ দুজনকে হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এ এটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার আসামি মোট পাঁচজন। তাদের মধ্যে চারজন পলাতক। পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

যে মামলাগুলো যুক্তিতর্কের ধাপে

কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগের মামলায় একমাত্র আসামি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক চলছে। এছাড়া, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হতে যাচ্ছে।

এর পরবর্তী ধাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।
 চার মামলায় দণ্ডিত ৫৫, আরও চারটিতে বিচার শেষ পর্যায়েআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন/ফাইল ছবি

হাসানুল হক ইনুর বিষয়ে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ মিজানুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের নেতা হিসেবে আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথন ফরেনসিক করা হয়েছে। তাতে প্রমাণিত হয়েছে, এসব হাসানুল হক ইনুর কথোপকথন। আশা করি অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হবো।’

তিনি আরও জানান, মাহাবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাসহ সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য রয়েছে।

এছাড়া প্রসিকিউটর মিজানুলের তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ সবার সাক্ষ্য নেওয়া শেষ করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিভিন্ন মামলার সাক্ষীকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেক সাক্ষী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারপরও তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম অক্লান্তভাবে কাজ করে চলছে। চলতি বছর আরও আট থেকে ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশাবাদী প্রসিকিউশন।’

আরও পড়ুন
গণঅভ্যুত্থানের মামলায় ঢালাও আসামি, সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা
খালেদা জিয়ার দেওয়া বিচারের আশ্বাস পূরণের দাবি নিহতদের স্বজনদের
১৩ বছর ধরে মামলা-বিচার আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণে

সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হত্যার নির্দেশসহ পাঁচটি অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে নির্যাতনের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন মামলার সাক্ষীকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেক সাক্ষী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারপরও তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম অক্লান্তভাবে কাজ করে চলছে। চলতি বছর আরও আট থেকে ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশাবাদী প্রসিকিউশন।- প্রসিকিউটর মুহাম্মদ মিজানুল ইসলাম

গোপন আটককেন্দ্র বা আয়নাঘরের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০৪ জনকে হত্যার মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহতের মামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

গণঅভুত্থানকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এখন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ঠিক করা হয়েছে আগামী ৯ জুন।

যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর বন্দুকযুদ্ধ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। এতে ১ জুন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

চার মামলায় দণ্ডিত ৫৫, আরও চারটিতে বিচার শেষ পর্যায়েশেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জোরদার করা নিরাপত্তা/ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং জুলাইয়ে গণহত্যার অভিযোগে সেনাবহিনীর নবম ডিভিশনের সাবেক জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে ২০১০ সালে গুমের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আগামী ২১ জুন প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরামসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন।

রাজধানীর মিরপুরের জাহাজবাড়িতে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নয় তরুণ হত্যার ঘটনার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আরও পড়ুন
সরকারি আইনি সহায়তায় আস্থা কম, সেবাগ্রহীতা এক শতাংশেরও নিচে
প্রযুক্তির জয়ে হার মানছে টাইপরাইটার
প্রশ্ন করেই ধূমপান থামাচ্ছেন খাদেমুল

সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলেসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি এখন অভিযোগ গঠন করে বিচারের প্রক্রিয়ায় আছে। আরেক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

চার মামলায় ৫৫ জন দণ্ডিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এরই মধ্যে চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পেয়েছেন একজন।

প্রথম রায়: গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশের পাশাপাশি শহীদদের পরিবারকে এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই বিচারকাজের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, বার্তা দিতে চাই, বাংলাদেশে এই জাতীয় ঘটনার যেন আর পুনরার্বৃত্তি না ঘটে।- চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

দ্বিতীয় রায়: গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি এই রায় দেওয়া হয়।

তৃতীয় রায়: গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ অপর একজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে আরও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ক্ষমা করে দেওয়া হয় একজনকে। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি এই রায় ঘোষিত হয়।

চতুর্থ রায়: গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ৯ এপ্রিল ঘোষিত এই রায়ে অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

যা বলছেন চিফ প্রসিকিউটর

যোগাযোগ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দুই ট্রাইব্যুনালে ২২টি মামলার বিচার চলমান। এছাড়া প্রায় ৩০টি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায়। প্রসিকিউশনে সাড়ে চার শতাধিক অভিযোগ এসেছে। সেগুলোর তদন্ত পর্যায়ক্রমে শুরু হতে যাচ্ছে।
 চার মামলায় দণ্ডিত ৫৫, আরও চারটিতে বিচার শেষ পর্যায়েমামলার শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে আসামিদের/ফাইল ছবি

‘প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই বিচারকাজের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, বার্তা দিতে চাই, বাংলাদেশে এই জাতীয় ঘটনার যেন আর পুনরার্বৃত্তি না ঘটে,’ যোগ করেন তিনি।

মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এখন পর্যন্ত চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আরও তিন থেকে চারটি মামলা রায় ঘোষণার কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) আছে। হাসানুল হক ইনুর মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। মাহবুব উল আলম হানিফের মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য দিন ঠিক করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরের মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নিয়ম অনুযায়ী যুক্তিতর্ক হবে।

এছাড়া, আরও বেশকিছু মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে কিছু মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানি ও আদেশের জন্য রয়েছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।

রায় ঘোষিত মামলার বিষয়ে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এখন পর্যন্ত মোট চারটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৫ জনের সাজা হয়েছে এবং রাজসাক্ষী হয়ে ক্ষমা পেয়েছেন একজন।

এফএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।