ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় প্রস্তুত ইইউ
দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনে প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (১১ মে) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস একথা বলেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।
সোমবার (১১ মে) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে কালাস জানান, হাঙ্গেরির নতুন সরকার আর এ পদক্ষেপে বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের পথ খুলে গেছে।
এর আগে সাবেক হাঙ্গেরীয় প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান দীর্ঘদিন ধরে এ নিষেধাজ্ঞা আটকে রেখেছিলেন। তবে গত শনিবার(৯ মে) পিটার ম্যাগিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
মাগয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে তিনি বাধা দেবেন না।
কালাস বলেন, সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হবে বলে আমি আশা করছি।
আরও বলেন, অনেক দিন ধরে টেবিলে থাকা এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হবে বলে আমি সত্যিই আশা করি।
তিনি জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এখন দেখা হবে তারা এগোতে প্রস্তুত কি না।
এদিকে এলিনা ভাল্টোনেন বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অপেক্ষায় আছেন তিনি। তার মতে, গত কয়েক মাসে গাজা ও পশ্চিম তীর-উভয় জায়গার পরিস্থিতিই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ দিয়ে এসব হামলা চালাতে দিচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন আহত এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।
এদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংস্থাটির তথ্য মতে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
কেএম