মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ৪ দফা প্রস্তাব চীনের, সমর্থন জানালো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ১১ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রস্তাবিত চার দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সোমবার (১১ মে) চীনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্দোলরেজা রাহমানি ফাজলি এমনটা জানিয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ফাজলি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চীনা প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবকে সমর্থন করার লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ও যৌথ উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন যায়েদ আল-নাহিয়ান-এর সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে চার দফা পরিকল্পনা উত্থাপন করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চীনের প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন অনুসরণ এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তেহরানের অবস্থানকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন,আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি-একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের জবাবে বলেছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরবর্তী ধাপে আলোচনা করা যেতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের জবাবে সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধের (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছে তেহরান।

উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হয়।

সূত্র: ডন/ মেহের নিউজ এজেন্সি/

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।