ট্রাম্পের চীন সফর
পরমাণু, এআই ও খনিজ ছাড়াও আলোচনার কেন্দ্রে রাশিয়া, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যু
এই সপ্তাহের ১৪-১৫মে চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এটি ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে।
এই বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতারা দীর্ঘ সময় পর মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বাণিজ্য উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিরোধপূর্ণ ইস্যুর কারণে দুই দেশের সম্পর্ক চাপে রয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ:
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন ফোরাম গঠনের বিষয়ে একমত হতে পারে। একই সঙ্গে বোয়িং উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি খাতে নতুন ক্রয়াদেশের ঘোষণা দিতে পারে চীন।
এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড অব ট্রেড ও বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট গঠনের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে, যদিও সেগুলো বাস্তবায়নে আরও কাজ করতে হবে।
দুই দেশ তাদের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতিও দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে আলোচনা করবে। এই চুক্তির আওতায় চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। তবে এই সপ্তাহেই চুক্তি নবায়ন হবে কি না তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ইরান, রাশিয়া ও তাইওয়ান ইস্যু:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং যাতে তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে উৎসাহিত করে এবং সংঘাতের অবসান ঘটায়। এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, ইরানের সঙ্গে এখনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন এবং এখনও ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের একটি চীন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প একাধিকবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ও রাশিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে চীনের মাধ্যমে ওই দেশগুলোর অর্থায়ন, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য অস্ত্র রপ্তানির বিষয়ও রয়েছে।
অন্যদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করা চীন তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর অসন্তুষ্ট। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপটির প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এর মানে দাড়ায়, আগের প্রশাসনের মতই তাইপের রাজনীতি ও চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
এআই ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ:
মার্কিন কর্মকর্তারা চীনে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে এআই নিয়ে যোগাযোগের একটি আনুষ্ঠানিক চ্যানেল প্রয়োজন। এক কর্মকর্তা বলেন, নেতাদের বৈঠককে আমরা এই আলোচনার সূচনা হিসেবে ব্যবহার করতে চাই।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলেও চীন এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীন ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তারা এখন কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা করতে আগ্রহী নয়।
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে তারা তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে সাময়িক বিরতিতে সম্মত হন। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেছিল এবং চীন বিরল খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল।
কেএম